বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ৩ মার্চ এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে শেখ মুজিবুর রহমান-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতির জনক’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার অসামান্য ক্ষমতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই ঘোষণা আসে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি ছিলেন বাঙালির রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি যে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, তা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। সেই ভাষণ পরবর্তীকালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই বাঙালির জাতীয় নেতৃত্ব কার্যত তাঁর হাতেই ন্যস্ত হয়েছিল। গণআন্দোলন থেকে সশস্ত্র সংগ্রাম—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা ছিল নির্ধারক। ফলে ‘জাতির জনক’ উপাধি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়; এটি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অর্জিত নেতৃত্বের স্বীকৃতি।
ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী স্বাধিকার আন্দোলন, বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণ এবং আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। জনমানসে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ নামেই অধিক পরিচিত হয়ে ওঠেন—একটি নাম, যা রাজনৈতিক পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আবেগ, আস্থা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে আছে।
ইতিহাসবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান ও আত্মত্যাগ জাতির চেতনায় স্থায়ীভাবে প্রোথিত। ৩ মার্চ তাই কেবল একটি ঘোষণার দিন নয়; এটি জাতির কৃতজ্ঞতা, সম্মান ও স্মরণবোধের প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।