গত দেড় দশকে বিদেশি নির্ভরতা আর অনুন্নয়নের তকমা ঝেড়ে ফেলে বাংলাদেশ এক অভাবনীয় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর ১৬ বছরের শাসনামলে দেশজুড়ে বাস্তবায়িত হয়েছে শত শত উন্নয়ন উদ্যোগ। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, সড়ক, রেল, বিদ্যুৎ, বন্দর ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে ১৭০টিরও বেশি মেগা ও মাঝারি প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। নিজস্ব সক্ষমতায় এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বিশ্বদরবারে এক আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন সাবেক এই সরকারপ্রধান।
গত ১৬ বছরে যোগাযোগ খাতে যেসব যুগান্তকারী মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসে বিরল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক ছিল নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত প্রমত্ত পদ্মার বুকে 'পদ্মা সেতু'। এটি শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানীর সেতুবন্ধনই তৈরি করেনি, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে রাখছে বিশাল অবদান।
রাজধানীর যানজট নিরসনে জাদুর কাঠির মতো কাজ করছে আধুনিক 'মেট্রোরেল' এবং 'ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে'। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল' দক্ষিণ এশিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক। পাশাপাশি ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং দোহাজারী-কক্সবাজারের নতুন রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এনেছে বৈপ্লবিক গতি; যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর দূরদর্শী পরিকল্পনারই অন্যতম ফসল।
বিশ্ববাণিজ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে আকাশ ও নৌপথে নেওয়া হয়েছিল অভাবনীয় সব মেগা প্রকল্প। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মিত 'থার্ড টার্মিনাল' বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার পথে এগিয়ে নিয়েছে।
সমুদ্রপথে বাণিজ্যের চাকা ঘোরাতে বাস্তবায়িত হয়েছে 'মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর' এবং 'পায়রা সমুদ্রবন্দর'-এর মতো মেগা প্রকল্প। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি চালু হলে এটি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে আবির্ভূত হবে।
শিল্পায়নের প্রধান শর্ত জ্বালানি নিরাপত্তায় গত দেড় দশকে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ৪ দশমিক ৯ গিগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ গিগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যার সুফল হিসেবে দেশ শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসে।
সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্পগুলোর একটি 'রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র'-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে এলিট নিউক্লিয়ার পাওয়ার ক্লাবে। এছাড়া পায়রা ও মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলো দেশের ভারী শিল্পায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে।
মানবসম্পদ ও সামাজিক অবকাঠামোয় নীরব বিপ্লব
কেবল ইট-পাথরের উন্নয়ন নয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর আমলে মানবসম্পদ উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছিল যুগান্তকারী উদ্যোগ। বিশ্বের বুকে এক অনন্য নজির স্থাপন করে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে কোটি কোটি পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার রেওয়াজ শুরু হয়। হাজারো প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে করা হয়েছে সুদৃঢ়।
পাশাপাশি, ধর্মীয় অবকাঠামো ও আধুনিকতার অপূর্ব সমন্বয়ে দেশজুড়ে ৫৬০টি 'মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র' নির্মাণ বিশ্বে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এসব মেগা প্রকল্পের মহাযজ্ঞ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব রেখে গেছে। বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা ও সমালোচনা থাকলেও, এসব অবকাঠামো যে বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রধান হাতিয়ার—তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর শাসনামলে তৈরি হওয়া এসব মেগা প্রকল্পের মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ আগামী দিনের উন্নত ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে।