বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গত দেড় দশকে গৃহীত বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও কৌশলগত পরিকল্পনা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে Sheikh Hasina-এর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত এসব উদ্যোগ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের মতে, এমন অনেক প্রকল্প রয়েছে যা একসময় বাংলাদেশের জন্য কল্পনাতীত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদ্মা সেতু—যা শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবল স্রোত ও ভৌগোলিক জটিলতা সত্ত্বেও এই সেতু নির্মাণ দেশের প্রকৌশল দক্ষতা ও রাজনৈতিক দৃঢ়তার এক অনন্য উদাহরণ।
একইভাবে রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প, বিশেষ করে এমআরটি লাইন-৬, উদ্বোধনের পর নগরবাসীর যাতায়াতে নতুন গতি এসেছে। শুরুতে যেটিকে উচ্চাভিলাষী ও অপ্রয়োজনীয় বলা হয়েছিল, সেটিই এখন নগর জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠছে। এর পাশাপাশি ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ে, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এবং সারাদেশে শতাধিক সেতু নির্মাণ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করেছে।
জ্বালানি খাতেও নেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাসনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য (ফুয়েল ডাইভার্সিটি) আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো একটি উৎসে সংকট দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা যায়। এলএনজি আমদানি, টার্মিনাল নির্মাণ এবং পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থাও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও চালু করা হচ্ছে না এবং কিছু ক্ষেত্রে কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে, যার মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালও উল্লেখযোগ্য।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির স্বার্থে এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


