ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই বিএনপি সরকারের ব্যাংক ঋণ ৪১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে—যা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের চলমান ব্যয় মেটাতে এবং বিভিন্ন খাতে অর্থায়নের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার নেওয়া হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিকল্পনার ঘাটতি ও রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতার কারণেই সরকারের ঋণের ওপর নির্ভরতা এত দ্রুত বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে ধারনির্ভরতা বাড়তে থাকলে দেশের ব্যাংকিং খাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে। সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের সংকট তৈরি হতে পারে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এছাড়া ঋণের সুদের বোঝা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক দায় আরও বৃদ্ধি পাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপর, কারণ মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে এখনো সরকার পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় প্রশ্ন উঠছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদরা জোর দিয়ে বলছেন, ব্যয় কমানো, রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং ঋণ গ্রহণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করলে এই ঋণের চাপ ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সার্বিকভাবে, ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই ঋণের এমন ঊর্ধ্বগতি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনি সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


