ঢাকাশুক্রবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

মোঃ সামিউল ইসলাম
ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮ ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটিকে কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে প্রকাশ করা হলো ৪ এপ্রিল ১৯৭১ এ ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজ (অডিও/ভয়েজ সহ পাওয়া যায়নি) যেখানে তৎকালীন ১২ জন নেতার সমন্বয়ে গঠিত এক প্রতিনিধি দল ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক ২৫ মার্চের গণহত্যার কারিগর বাংলার কসাই হিসেবে পরিচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন মৌলভী ফরিদ আহমদ, অধ্যাপক গোলাম আজম, খাজা খয়েরউদ্দীন, জনাব শফিকুল ইসলাম, মওলানা নুরুজ্জামান প্রমূখ।

এ সভায় অবিলম্বে সমগ্র প্রদেশে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রতিনিধি দল সামরিক আইন প্রশাসককে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস এবং জনগণের মন থেকে ভিত্তিহীন ভয় দূর করার উদ্দেশ্যে তারা ঢাকায় নাগরিক কমিটি গঠন করারও প্রস্তাব দেন।

দৈনিক পূর্বদেশের ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিলের সংখ্যায় সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের এক প্রেস রিলিজের বরাত দিয়ে সেসময় এই খবর প্রকাশ করা হয়।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আজম যেসব বক্তব্য/বিবৃতি দিয়েছেন তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

৮ এপ্রিল ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক মওলানা নুরুজ্জামান ও জামাতের অপর নেতা গোলাম সারওয়ারের সাথে এক যুক্ত বিবৃতিতে গোলাম আজম মুক্তিযোদ্ধাদের ‘ এজেন্ট ও পাকিস্তান বিরোধী’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় বা পাকিস্তান বিরোধী এজেন্টদের বা অনুপ্রবেশকারীদের যেখানেই দেখা যাবে, সেখানেই পূর্ব পাকিস্তানের দেশপ্রেমিকরা তাদের নির্মূল করবে।’

১৮ জুন ১৯৭১, লাহোর বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম আজম বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থার আরও উন্নতির জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে পরামর্শ দিয়েছেন। ঠিক কী পরামর্শ ভেঙে না বললেও তিনি বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীরা এখনও ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত রয়েছে। ত্রাস সৃষ্টি এবং বিশৃংখলা অব্যাহত রাখাই তাদের উদ্দেশ্য। দুষ্কৃতকারীরা নকশালপন্থী ও বামপন্থী শক্তি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। জনগণ পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীকে পূর্ণ সাহায্য সহযোগিতা দানে ইচ্ছুক, কিন্তু জীবন নাশের জন্য দুষ্কৃতকারী হুমকি দেয়ায় তারা এ ব্যাপারে পূর্ণ সাহায্য দান করতে পারছে না।’

১৯৭১ সালের ১৪ আগস্ট আজাদী দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি আয়োজিত কার্জন হলের সভায় গোলাম আজম ‘পাকিস্তানের দুশমনদের মহল্লায় মহল্লায় তন্নতন্ন করে খুঁজে তাদের অস্তিত্ব বিলোপ করার জন্য দেশপ্রেমিকদের শান্তি কমিটির সাথে সহায়তা করার উদাত্ত আহ্বান’ জানান। সবশেষে তিনি ‘শান্তি কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ ক্রমেই সরকারকে দেশের সংহতির খাতিরে পদক্ষপ গ্রহণ করা উচিত’ বলে বক্তৃতা শেষ করেন।

২৩ আগস্ট ১৯৭১, লাহোরে জামাতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় গোলাম আজম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীকে যারা অদেশপ্রেমিক দল হিসেবে আখ্যায়িত করেন, তারা হয় এ সত্য জানেন না বা স্বীকার করার মত সত্ সাহস নেই যে, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিষদাঁত ও নখ’ ভেঙে দেওয়ার জন্য পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের বহু সংখ্যক কর্মী দুষ্কৃতকারীদের হাতে প্রাণ দিয়েছেন।’

২৬ আগস্ট ১৯৭১, পেশোয়ারের সাংবাদিক সম্মেলনে গোলাম আযম বলেন, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের মীরজাফরী ও ভারতের দুরভিসন্ধি হতে সশস্ত্র বাহিনী দেশকে রক্ষা করেছে।’ এ সফরের সময় লাহোরের সাপ্তাহিক জিন্দেগীকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা ছিল এদেশের মাটিকে রক্ষা করার জন্য। তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন এর আগেই অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল না কি’?

১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১, মোহাম্মদপুরে ফিজিক্যাল ট্রেইনিং কলেজে আলবদর হেড কোয়ার্টারে এবং রাজাকার বাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবির পরিদর্শন করেন গোলাম আযম। রাজাকার ও আলবদরদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা অভ্যন্তরীণ দুশমনদের দমন করার কাজে যত তাড়াতাড়ি এগিয়ে আসতে পারবে, ততই তাড়াতাড়ি সেনাবাহিনী দেশকে শত্রুমুক্ত করার কাজে ফিরে যেতে পারবে।’

১৬ অক্টোবর ১৯৭১, বায়তুল মোকাররমে জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় গোলাম আযম বলেন, ‘জামাতে ইসলামী গোটা দেশে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিরলসভাবে শান্তি কমিটির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।’

২৭ নভেম্বর ১৯৭১, রাওয়ালপিন্ডিতে এক সমাবেশে গোলাম আযম বলেন, ‘আক্রমণই সর্বোত্তম পন্থা।’

৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ করাচিতে পৌঁছে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র দপ্তরের ভার কোনো পূর্ব পাকিস্তানিকে দিতে হবে। কারণ এ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পূর্বপাকিস্তানিই তথাকথিত ‘বাংলাদেশ তামাশা’ ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারবেন।’

মুক্তিযোদ্ধারা যখন ঢাকার কাছে এসে পৌঁছান, তখন গোলাম আজম জামাতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহক কমিটির বৈঠকে যোগদানের নামে জামায়াতের সহকারী প্রধান মওলানা আব্দুর রহিম এবং প্রাদেশিক রাজস্ব মন্ত্রী একেএম ইউসুফকে নিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, পাকিস্তানে উর্দু ডাইজেস্টের এডিটর আলতাফ হোসাইন কুরাইশীকে গোলাম আজম বলেন, ‘উপমহাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম হিন্দু ও শিখ বাহিনীর নিকট প্রায় এক লাখ সশস্ত্র বাহিনী আত্মসমর্পণ করল। হাজার বছরের ইতিহাসে এতো বড় ঘটনা কখনো ঘটেনি। ইংরেজ আমলেও (১৮৩১) মুজাহিদ বাহিনী শিখদের নিকট আত্মসমর্পণ করেনি।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।