কারাগার যেন ধীরে ধীরে বিচারহীনতার অন্ধকার কুঠুরিতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে একের পর এক হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। একজন মানুষ রাষ্ট্রের হেফাজতে জীবিত অবস্থায় যায়, কিন্তু লাশ হয়ে ফিরে আসে—এটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার জবাবদিহিতার প্রশ্ন।
জুলাই-আগস্টের কথিত মামলায় গ্রেফতার হওয়া দেবাশীষ চৌধুরীকে গত ২৭ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকার নিজ বাসা থেকে পুলিশ সুস্থ অবস্থায় আটক করে। পরিবারের দাবি, গ্রেফতারের সময় তার শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা ছিল না।
কিন্তু গ্রেফতারের মাত্র ২১ দিন পর, গতকাল চট্টগ্রাম কারাগার থেকে তাকে মৃত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পিঠে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
এখন জনমনে একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
একজন সুস্থ মানুষ কারাগারে যাওয়ার পর কী ঘটেছিল?
কেন তিনি জীবিত ফিরে এলেন না?
রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা একজন নাগরিকের জীবনের দায়ভার কে নেবে?
সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতে মৃত্যু ও কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, বিরোধী মত দমন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ভয়ভীতির সংস্কৃতি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
দেবাশীষ চৌধুরীর মৃত্যুর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও উঠেছে।


