বিনা কোনো অপরাধে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাদের ধারাবাহিকভাবে হত্যা করা হচ্ছে। নির্দোষ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা কেন পুলিশ ও কারা হেফাজতে প্রাণ হারাচ্ছেন—এই প্রশ্ন তোলা আজ জরুরি। পরিকল্পিতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের হত্যা করা হচ্ছে, যা স্পষ্টতই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসেরই বহিঃপ্রকাশ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অন্তত ১১২ জন কারা হেফাজতে প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তবে এই সংখ্যা আরও ভয়াবহ। কারণ বহু মৃত্যুর তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশই পায়নি। নির্ভরযোগ্য তথ্যে জানা যায়, কারাগার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে কমপক্ষে ২০৫ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫২ জনকে চিকিৎসা না দিয়ে, নির্যাতন চালিয়ে এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এই নির্মম তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী শ্রী রমেশ চন্দ্র সেন। মাত্র আধা ঘণ্টা কথা বলার অজুহাতে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি আর জীবিত ফিরে আসেননি—বিনা চিকিৎসায় তার নিথর দেহ ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর আগে একইভাবে চিকিৎসা অবহেলায় প্রাণ হারিয়েছেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।
এই মৃত্যুগুলোকে আড়াল করতে কারা কর্তৃপক্ষ বারবার “বার্ধক্যজনিত মৃত্যু”, “হার্ট অ্যাটাক” বা “স্ট্রোক”-এর অজুহাত দিচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই মৃত্যুগুলো মোটেও স্বাভাবিক নয়। প্রতিটি মৃত্যু পরিকল্পিত, প্রতিটি মৃত্যু রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড।
কারা আইন অনুযায়ী, কারাগারে সংঘটিত প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তযোগ্য। অথচ অবৈধ ইউনূস সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে তদন্ত তো দূরের কথা, বরং অপরাধীদের রক্ষা করছে। লন্ডনের আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম চৌধুরী বলেন, “দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছি—এই সরকারই এসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি দায়ী।
আজ না হোক, কাল—একদিন এই হত্যার প্রতিটি হিসাব কড়ায় গণ্ডায় নেওয়া হবে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যারা এই নিরপরাধ মানুষদের রক্তে হাত রাঙিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে একদিন জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।”


