ঢাকাসোমবার , ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. Kmspico
  2. অন্যান্য
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আইন ও পরামর্শ
  7. আন্তর্জাতিক
  8. আবহাওয়া
  9. ইসলাম
  10. কর্পোরেট
  11. কৃষি
  12. ক্যাম্পাস
  13. ক্রিকেট
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

রৌমারীর হেরোইন ও চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের ‘সম্রাট’ ফিরোজ

রৌমারী প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সম্প্রতি একটি নাম ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আলোচিত সেই নামটি হলো ফিরোজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি রৌমারী বাজারের হারি–পাতিল ব্যবসায়ী মন্টুর ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, ফিরোজ একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন তার কোনো দৃশ্যমান ব্যবসা বা বৈধ আয়ের উৎস চোখে পড়েনি।

কিন্তু হঠাৎ করেই ফিরোজের জীবনযাত্রা ও আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও সন্দেহের জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, রৌমারী ইসলামী ব্যাংকের নিচে তিনি একটি চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার কেন্দ্র গড়ে তোলেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বিশাল সিন্ডিকেটে রূপ নেয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই মোটরসাইকেল চোরাচালানই ছিল তার মূল আড়াল—এর পেছনেই পরিচালিত হতো হেরোইন ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের রমরমা কারবার।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ফিরোজের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের গোপন পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। এসব তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছানোর পর রৌমারীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই মাদক ও চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রৌমারী থানা পুলিশ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিলে ফিরোজ বিষয়টি আগেই আঁচ করতে সক্ষম হন। ফলে তিনি প্রায় এক সপ্তাহ আগে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ সূত্র জানায়, তার গড়ে তোলা চোরাই মোটরসাইকেল ব্যবসাকেন্দ্রটি এখনো প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, ফিরোজ এর আগেও একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায়ও তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফিরোজ অত্যন্ত কৌশলী উপায়ে মাদক পাচার পরিচালনা করতেন। চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের নামে মোটরসাইকেলের ট্যাংকের ভেতরে মাদক লুকিয়ে রৌমারী থেকে বকশীগঞ্জ, জামালপুর ও শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েও।

এছাড়াও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী বাজারের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা নাসির খান ওরফে মারিয়া আলমের ছেলে নাদির হোসেন রনি—যিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবেও পরিচিত—তার সঙ্গে ফিরোজের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফিরোজ ও রনি যৌথভাবে রৌমারীতে একটি প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নাদির হোসেন রনির বাড়ি থেকে খুচরা মাদক বিক্রি করা হয় এবং একটি নির্দিষ্ট মাসিক অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে এই সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের মতে, ফিরোজ ও তার সহযোগীদের কথিত কর্মকাণ্ড রৌমারীর যুব সমাজকে ভয়াবহ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং সিন্ডিকেট সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ। এখন রৌমারীবাসীর প্রশ্ন—এই মাদক ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।