রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বাজারে পর্যাপ্ত মজুত ছিল এবং কোনো ঘাটতি ছিল না।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। জানুয়ারি ২০২৬ মাসে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১,৩০৬ টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে তা বাড়িয়ে করা হয় ১,৩৫৬ টাকা।
কিন্তু ভোক্তাদের অভিযোগ, বাস্তবে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একই সিলিন্ডার ১,৭০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চট্টগ্রামেও অনুরূপ পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে জানুয়ারিতে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগও উঠেছে, যা নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ১,২০০ টাকা বেশি।
একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু সরবরাহকারী ও ডিলার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩৫০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করেছেন। সংশ্লিষ্টদের একাংশের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তুলেছেন ভোক্তা অধিকারকর্মীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, “পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সংকট” বলতে বোঝায় সরবরাহ শৃঙ্খলে ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রাখা বা ধীরগতিতে বাজারে ছাড়া, যার ফলে দাম বাড়ে। এটি বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামার অংশ নয় বলে তারা দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে তৎকালীন ইউনূস সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিইআরসি নিয়মিত মূল্য নির্ধারণ করলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং তদারকিতে ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেখা যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বড় আমদানিকারক ও ডিলারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবার, ছোট ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো।


