৫ আগস্টের পর সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ নিজ এলাকায় থাকতে পারছে না। বহু আগে ছাত্রলীগ করত—এই অভিযোগেও একজন পঙ্গু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ, যে তার বাচ্চার জন্য ওষুধ কিনতে গিয়েছিল, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শামীম মোল্লাকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজশাহী মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের এক নেত্রী প্রিয়া পরীক্ষা দিতে এলে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
৫ আগস্টের পর ঢাকার কমিটিতে থাকা কয়জন ছাত্রলীগ নেতা বাসায় থাকতে পেরেছে? অথচ, ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ—এই ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা, যে ঢাকার কমিটিতে ছিল—৫ আগস্টের পরও নিশ্চিন্তে বাসায় থেকেছে। তিন মাস পর সে আবার ঢাকায় এসে অস্ত্রসহ চাঁদাবাজিও করেছে। হিসাব কি মেলে?
শুধু তাই নয়, গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই জামিন পেয়ে যাওয়া, হাদীর সঙ্গে তার অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা, এমনকি প্রকাশ্যে হাদীর একেবারে পাশে বসে থাকার দৃশ্য—এসবের হিসাব কি আদৌ মেলে?
সাদিক কায়েম বা সারজিস আলমও তো একসময় ছাত্রলীগের পদে ছিল—তারাও কি তাহলে আওয়ামী লীগের কথামতোই কাজ করবে? তারা যদি কাউকে গুলি করে, সেটার দায়ও কি ছাত্রলীগের ওপরই চাপানো হবে?
৫ আগস্ট-পরবর্তী, ৮ নভেম্বর ২০২৪ ঢাকার আদাবর থানার মামলায় আটকের সময় দাউদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এই আমলে দুটি বিদেশি পিস্তল আর দুটি ম্যাগাজিনসহ ধরা পড়া ছাত্রলীগ নেতা নাকি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল! এ কি পাগলেও বিশ্বাস করবে?
পরীক্ষার হলে কলম নিয়ে ধরা পড়া ছাত্রলীগ নেতাদের আজও জামিন হয় না, অথচ পিস্তল, ম্যাগাজিন আর গুলি হাতে ধরা পড়া ছাত্রলীগ নেতার জামিন হয়ে গেল—কীভাবে?
ওসমান হাদী মরলে কাদের লাভ? চিন্তা করে দেখুন!


