ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার নাটক ছিল তারেক জিয়ার দেশে ফেরার রাজনৈতিক ট্রাম্পকার্ড

মোঃ সামিউল ইসলাম
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!


খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নাটক মূলত তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত করার একটি কৌশল—এমনটাই আমার বিশ্বাস। কথায় আছে, “দুষ্টু লোকের মিষ্টি ভাষা”। দীর্ঘদিন ধরেই তারেক রহমানের দেশে ফেরা অনিশ্চিত ছিল। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘাত এবং একাধিক রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগের কারণে তিনি রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ছিলেন। এই বাস্তবতায় তারেক রহমানকে রাজনীতির মূল স্রোতে ফেরাতে একের পর এক নাটক সাজানো হচ্ছে।

বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বহু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিতর্কিতভাবে ফাঁসানো, সেনাবাহিনীর ভেতরের শক্ত অবস্থান দুর্বল করা এবং পরে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি—এই সবকিছুই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ বলে মনে হয়। এরপর আসে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা, যা বিএনপির পুরোনো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি।

ছোটবেলা থেকেই তারেক রহমানের রাজনৈতিক চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তার শিক্ষাজীবন নিয়েও রয়েছে বিস্তর বিতর্ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার দাবি আজও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণে দাঁড়াতে পারেনি। অল্প বয়সেই তিনি রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়নের পথে হাঁটেন এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে গড়ে তোলেন দুর্নীতির সমান্তরাল প্রশাসন—কুখ্যাত “হাওয়া ভবন”। ২০০১–২০০৬ সময়ে এই ভবন থেকেই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, নিয়োগ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণ চলত।

এই সময়েই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বে শীর্ষস্থানে উঠে আসে। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জঙ্গি সংগঠনের উত্থান—সবকিছুর পেছনেই হাওয়া ভবনের ছায়া দেখা যায়। জামায়াতে ইসলাম ছিল এই ক্ষমতার পাহারাদার, আর জেএমবি, বাংলা ভাইদের মতো জঙ্গি শক্তি রাষ্ট্রের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা সেই অন্ধকার সময়ের চূড়ান্ত প্রকাশ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০০৮ সালে তারেক রহমান “আর রাজনীতি করবেন না” মর্মে মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে পালিয়ে যান। সেখানেই তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর বিলাসবহুল জীবন কাটান। বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ, এফবিআই কর্মকর্তার সাক্ষ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন—সব মিলিয়ে তারেক রহমান হয়ে ওঠেন ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’।

আজ আবার তাকে ‘গণতন্ত্রের রক্ষক’ বানানোর চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, ভারতীয় সবুজ সংকেত পেয়েই তারেক দেশে ফিরছেন। কিন্তু পাকিস্তানের আইএসআই সংশ্লিষ্টতা, ভারতের বিরুদ্ধে অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ—এসব ইতিহাস এত সহজে ভুলে যাওয়ার কথা নয়।

ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তারেক ও জামায়াতের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে নিজের ‘সেইফ এক্সিট’ নিশ্চিত করার চেষ্টা কি তিনি করছেন? ১/১১-এর কুশীলব হিসেবে তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন নয়। বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে মাঝখান থেকে ফায়দা তোলাই কি তার লক্ষ্য?

সবচেয়ে বড় কথা, বিএনপি ও জামায়াতের ভেতরের তিক্ততা আজও অমীমাংসিত। ক্ষমতার লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অতীতের ক্ষত, বিশ্বাসঘাতকতা ও রক্তাক্ত ইতিহাস খুব সহজে মুছে যায় না।

২০০১ সালের বাংলাদেশ আর ২০২৫ সালের বাংলাদেশ এক নয়। জনগণ অনেক বেশি সচেতন। তারেক রহমানের রাজনীতি ব্যবসা-কেন্দ্রিক, আদর্শহীন এবং অতীতের বোঝায় ভারী। অতীতেও তিনি সফল হননি, ভবিষ্যতেও হবেন—এমন বিশ্বাসের কারণ খুব কম।

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে সময়। তাই এখন একটাই পথ—
Wait and see.
সত্য সবসময় সুন্দর, যদিও তা অস্বস্তিকর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।