সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী দৈনিক খালিজ টাইমস আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর শেখ হাসিনা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করে বলেন, এই সরকার চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী করেছে, ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করছে। তাঁর মতে, এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
এএনআইকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “এই শত্রুতা সৃষ্টি করছে এমন চরমপন্থীরা, যাদের ইউনূস সরকার সাহস জুগিয়েছে।” তাঁর দাবি, এসব গোষ্ঠী ভারতীয় দূতাবাসে মিছিল করেছে, গণমাধ্যম অফিসে হামলা চালিয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করেছে এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT)-এর রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার প্রচেষ্টা। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং পছন্দের আইনজীবী নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়নি।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন প্রকৃত নির্বাচন নয়। তাঁর মতে, এতে লাখো মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এবং এমন সরকার নৈতিক বৈধতা হারাবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও অংশীদার। বর্তমান টানাপোড়েনের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করেন এবং বলেন, এই সম্পর্ক যেকোনো অস্থায়ী সরকারকে ছাড়িয়ে টিকে থাকবে।
শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীন বিচার বিভাগ ফিরে এলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত এবং তখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।


