জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দান শেষে ঢাকায় ফিরে আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির মাধ্যমেই আগামী নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ এই ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তার আগেই আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।
শেখ হাসিনা বলেছেন বিএনপি ভোটে জয়লাভের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। সেকারণেই দলটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সোমবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোল।
নতুন নির্বাচন কমিশন
বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল সার্চ কমিটির মাধ্যমে। রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন।
সেই সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারদের পদের জন্য একাধিক নাম প্রস্তাব করেছিল। রাষ্ট্রপতি সেই প্রস্তাব থেকে বাছাই করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিলেন।
এখন ফেব্রুয়ারি মাসে এই কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন কমিশন গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রশ্ন উঠেছে, আবারও সার্চ কমিটি গঠন করে নাকি আইন প্রণয়ন করে কমিশন গঠন করা হবে?
বিএনপিসহ বিভিন্ন দল আইন প্রণয়ন করে কমিশন গঠনের দাবি করেছে।
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বিএনপি
প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন এবং বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকার প্রসঙ্গও এসেছে সংবাদসম্মেলনে। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, আগামী নির্বাচনে সব দলের এবং ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে?
এই প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য হচ্ছে, বিএনপি ভোটে জয়লাভের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। সেকারণে দলটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি বলেছেন, তাঁর সরকারের সময় দেশের মানুষ কী পেয়েছে এবং বিরোধী বিএনপির সময় কী পেয়েছে-এর তুলনা করতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেছেন, জনগণ কাকে ভোট দেবে আওয়ামী লীগের বাইরে আর কে আছে?
”অনেক চেষ্টা করা হয়েছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। নির্বাচন যাতে ঠিক মত না হয়, মানুষ যাতে না যায়, হেন কাজ নেই যা করা হয়নি। তারপরেও নির্বাচন হয়েছে। তারপরে একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি ছিল বলে আজকে যত উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন, তা করা সম্ভব হয়েছে,” বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এটি “অত্যন্ত সুবিধাবাদী, বলতে গেলে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে তৈরি করা সংগঠন।” তিনি বলেন: ”এই দল কি কোন নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত?… তারা এটা জানে যে তারা জিততে পারবে না।… তার নেতৃত্ব কোথায়?” প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে তাদের তো কোন অভিযোগ নেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি যখন জয়লাভ করতে পারেনি, তখন তারা প্রশ্ন তোলেনি কেন?
“তাদের ভিতরে যে একটা বিশ্বাস যে ইলেকশনে তারা জিতবে, সেই বিশ্বাসটা তাদের নেই, হারিয়ে গেছে। তারা জানে যে তাদের কোন সম্ভাবনা নেই। সম্ভাবনা যখন নাই, তখন এটাকে যেভাবেই হোক কন্ট্রোভার্সিয়াল করা, যেভাবেই হোক মানুষের মধ্যে একটা দ্বিধার সৃষ্টি করা, মানুষের ক্ষতি করা এটাই তো চেষ্টা,” সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন শেখ হাসিনা।
বিরোধী দল নেই বলে ‘আত্মতুষ্টি নয়‘
আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ থাকা না থাকার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন যে, প্রতিপক্ষ যদি নাই থাকে, তাহলে জাতীয় নির্বাচনের এখনও দুই বছরেরও বেশি সময় বাকি থাকতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিষয়টি এখন কেন আলোচনায় আনা হয়েছে?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছে: “খরগোশ আর কাছিমের দৌড়ের মত দশা যেন না হয়, সেজন্য আওয়ামী লীগকে আগে থেকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।”


