বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরকেই আবারো সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কাউন্সিলে নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ গঠন করলেও দুটি পদেই একক প্রার্থী থাকায় ওই কমিশন এ দুটি নামই কাউন্সিলরদের সামনে প্রস্তাব করলে তারা মৌখিকভাবে তা সমর্থন করেন।
শেখ হাসিনা এ নিয়ে দশমবারের মতো দেশের প্রাচীন এই দলটির সভাপতি হলেন আর ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হলেন তৃতীয় বারের মতো।
জানা গেছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন দলটির সিনিয়র নেতাদের একজন আমির হোসেন আমু এবং তা সমর্থন করেন উত্তরাঞ্চলের একজন নেতা।
এর আগে সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির বাইশতম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা সংকট বিবেচনায় দলটির এবারের সম্মেলনের কাজ কিছুটা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সাধারণত আওয়ামী লীগের সম্মেলন দুদিন হলেও এবার তা একদিনেই করা হলো।
আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করে দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন পরপর তিন বার ক্ষমতায় আছেন বলেই তারা বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পেরেছেন।
তবে কোভিড মহামারি সে অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যাহত করেছে এবং কোভিডের পর ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় এর আঘাতও বাংলাদেশের ওপর আসবে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
“যুদ্ধ আর নিষেধাজ্ঞা আমরা চাইনা। ওগুলো বন্ধ করেন। সব দেশ স্বাধীন। স্বাধীনভাবে তার চলার অধিকার আছে। এ অধিকার সব দেশের থাকতে হবে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করেন। তাদের উস্কানি দেয়া বন্ধ করেন। আমরা শান্তি চাই,” সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে দেয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ ভাষণে শেখ হাসিনা মূলত তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য তার দলের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসহ নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের অবহিত করেন।
ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলনে যোগ দিতে সারাদেশ থেকে প্রায় সাত হাজার কাউন্সিলর ঢাকায় এসেছেন।
এছাড়া ডেলিগেট ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবেও যোগ দিয়েছেন বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সমর্থক।
সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা যোগ দিলেও বিএনপির কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।
আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিতে বিএনপির তিন জন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো।
সকালে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
একই সাথে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটির ৭৮টি সাংগঠনিক ইউনিটের পক্ষ থেকে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।
আর সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপন করেন ওবায়দুল কাদের।
সম্মেলনে যোগ দিতে আসা কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। অনেকে দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা নিয়ে এসেছেন। কেউ কেউ নানা সাজে সজ্জিত হয়ে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
দলীয় শ্লোগানে তারা সম্মেলন স্থলকে মুখরিত করে রাখেন দীর্ঘসময়। বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনেও সভাপতিত্ব করবেন শেখ হাসিনা। সেখানেই কাউন্সিলরদের সাথে আলোচনা করে দলের নতুন কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে।


