ঢাকাশনিবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৩
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আওয়ামী লীগ যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করেছিল

মোঃ সামিউল ইসলাম
জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাস। তৎকালীন বিএনপি সরকার যখন একপেশে সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, বিরোধীদল আওয়ামী লীগ তখন রাস্তায় তুমুল আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে। হরতাল, অবরোধ, হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দেশ তখন বিপর্যস্ত।

১৯৯৪ সালে মাগুরা জেলায় একটি উপনির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

নানা কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে আওয়ামী লীগ। আন্দোলন শুরুর নয় মাসের মধ্যেই জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। তাদের মতো পদত্যাগের রাস্তা বেছে নেয় জামায়াতে ইসলামী, এবং জাতীয় পার্টির এমপিরাও পদত্যাগ করেন।

১৯৯৫ সালের পুরো বছরজুড়ে হরতাল এবং অবরোধসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচী দেয় আওয়ামী লীগ।

১৯৯৬ সালের ১৫ই ফ্রেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসতে থাকে, বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের তীব্রতাও বাড়তে থাকে।

১৫ই ফ্রেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করতে থাকেন। খালেদা জিয়া যেখানে সমাবেশ করতে যাচ্ছিলেন সেখানেই হরতালের ডাক দেয় আওয়ামী লীগ।

খালেদা জিয়া তার নির্বাচনী এলাকা ফেনীতে সমাবেশ করতে গেলে সেখানেও তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়েন। সেখানে বিরোধী দলগুলো হরতালের ডাক দেয় এবং কালো পতাকা প্রদর্শন করে।

পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ফেনীতে দুটো সমাবেশ বাতিল করতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

রাজনৈতিক সহিংসতা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিভিন্ন জেলায় বিএনপি নেতাদের বাড়ি কিংবা অফিসে হামলা হয়। রাজশাহীর তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর বাড়িতে বোমা হামলা হয়।

খালেদা জিয়া রাজশাহীতে সমাবেশ করতে গেলে সেখানে তার সমাবেশের কাছেই বোমা হামলায় একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়।

এমনকি প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয় বলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের সমাবেশ ও মিছিলেও হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। এছাড়া পুলিশও হামলা চালিয়েছিল নানাভাবে।

বিরোধী দলগুলোর তীব্র আন্দোলনে সরকারের ভেতরে উদ্বেগও বাড়তে থাকে। কিন্তু একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিএনপি সরকার ছিল অবিচল।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের বলেন যে বিরোধী দল যেসব ‘বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য’ সৃষ্টি করছে তাতে তিনি মোটেও বিচলিত নন।

তিনি বলেন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য এই নির্বাচন করতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের তীব্র আন্দোলনে সড়ক, নৌ এবং রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য ১৯৯৬ সালের ১৪ ও ১৫ই ফেব্রুয়ারি লাগাতার হরতালের ডাক দেয় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের পাশপাশি জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এবং জাসদ (রব) কর্মসূচী ঘোষণা করে।

আওয়ামী লীগের হরতালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, দিনাজপুর, রংপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে যায়।

সে কর্মসূচীকে দৈনিক ইত্তেফাক বর্ণনা করেছিল এভাবে, ” নজিরবিহীন এই হরতালে শহরগুলিকে অনেকটা মৃতপুরীর মত হইয়াছিল। সন্ত্রাস, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ ও ব্যালট পেপার এবং বাক্স ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়া হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়। রাজধানীর সচিবালয়ে উপস্থিতির হার শতকরা ৩/৪ শতাংশে নামিয়া আসে। সমগ্র শহরে ৫০০শ রিক্সাও চলে নাই।”

এমন অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্র্রুয়ারি ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতায় অন্তত ১০ জনের নিহত হবার খবর প্রকাশিত হয় সংবাদপত্রে।

একতরফা সেই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই নগন্য। নির্বাচনে পর তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি একেএম সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, কত শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে সেটি বড় কথা নয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটাই আসল কথা।

৩০০ আসনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৫০টি আসনে। ৪৬টি আসনে একাধিক প্রার্থি না থাকায় বিএনপির প্রার্থিরা ভোটের আগেই নির্বাচিত হয়ে যান।

আন্দোলন আরো জোরদার

১৫ই ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর তৎকালীন বিরোধী দলীয় শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহবান জানান, তারা যাতে সেই সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়।

সে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে বর্ণনা করেন শেখ হাসিনা।

একই সাথে আওয়ামী লীগের রাস্তার কর্মসূচীও চলমান থাকে। আওয়ামী লীগ টানা ১০৮ ঘণ্টার অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়।

সবচেয়ে বড় সহিংসতা হয় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। সেখানে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, দোকানপাটে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেনাবাহিনীর একটি জিপ গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। একই সাথে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অফিসেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বিরোধী দলের আন্দোলন থামাতে তাদের কিছু সিনিয়র নেতাকেও গ্রেফতার করা হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।