ঢাকাশুক্রবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তারেক রহমান: বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে সমঝোতা করে বড় ছেলেকে লন্ডনে পাঠিয়েছিলেন

মোঃ সামিউল ইসলাম
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০ ৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের তখন তাড়া করে ফিরছে গ্রেফতার আতঙ্ক।

জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখ সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হওয়ার প্রথম দুই মাসে দেড়শো’ জনের বেশি রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীকে আটক করা হয় দুর্নীতির অভিযোগে।

অনেকের মনে তখন একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল – তারেক রহমান কি গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন?

তারেক রহমানের সম্ভাব্য গ্রেফতার নিয়ে সংবাদ মাধ্যমেও তখন নানা রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছিল যে যেকোন সময় আটক হতে পারেন তারেক রহমান।

ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে মইনুল রোডের বাড়িতে তারেক রহমান তখন অস্থির সময় পার করছেন, এমন একটি চিত্রও ফুটে উঠেছিল সংবাদপত্রের খবরগুলোতে।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০০৭ সালের ৭ই মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।

অথচ মাত্র মাস ছয়েক আগেও প্রধানমন্ত্রীর পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের ছিল দোর্দন্ড প্রতাপ।

সমালোচনা রয়েছে, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলেও তারেক রহমান হয়ে উঠেছিলেন সমান্তরাল আরেকটি ক্ষমতার কেন্দ্র – হাওয়া ভবন-কেন্দ্রীক।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বেশ দ্রুততার সঙ্গেই তারেক রহমানকে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে খালেদা জিয়া কার্যত তখনই তারেক রহমানকে দলের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।

রিমান্ড ও তারেক রহমান

গ্রেফতারের পর মি. রহমানকে যেভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটি দেখে অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। র‍্যাব-এর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট পরিয়ে ঢাকার একটি আদালতে তোলা হয়েছিল তাকে।।

এরপর তারেক রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল।

তারেক রহমান এবং বিএনপির তরফ থেকে এরপর অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে রিমান্ডে তার উপর ‘অমানুষিক নির্যাতন’ চালানো হয়েছে।

আদালতে দেয়া তারেক রহমানের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা ২০০৮ সালের ১০ই জানুয়ারি লিখেছিল, “রিমান্ডের সময় আমাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই হাত ও চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল … আমাকে বেঁধে রুমের ছাদের সাথে ঝুলিয়ে আবার ফেলে দেয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।”

কারাগারে থাকা অবস্থায় মি. রহমানের উপর নির্যাতনে অভিযোগ তখন বেশ জোরালোভাবে দলের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার সাথে সেনা কর্মকর্তাদের দরকষাকষি

তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার প্রায় ছয়মাস পরে খালেদা জিয়া নিজেও আটক হন। তারও আগে ১৬ই জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়া ছিলেন সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতারের জন্য তৎকালীন সেনা-সমর্থিত সরকারের উপর চাপ বাড়তে থাকে।

অনেকে ধারণা করেছিলেন যে সরকারের সাথে সমঝোতা করে দুই ছেলেকে নিয়ে খালেদা জিয়া হয়তো দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন।

তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন ‘নির্বাচন কমিশনে পাচ বছর’ বইতে এ সংক্রান্ত একটি ধারণাও দিয়েছেন।

“আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেফতারের পর গুঞ্জন হচ্ছিল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে। অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত তার দুই পুত্রকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাবেন,” লিখেছেন মি. হোসেন।

তবে ওই গুঞ্জন পরে আর সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি।

দু’হাজার আট সালের গোড়ার দিকেই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সে বছরের শেষ নাগাদ সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রধানের উপর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়তে থাকে।

তখন থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন অনুভব করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বস্তুতঃ পর্দার আড়াল থেকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআই-এর কর্মকর্তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যোগাযোগ শুরু করে।

দু’হাজার আট সালের মে মাস থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে অপ্রকাশ্যে আলোচনা চালায় সরকার, যদিও সবকিছুর মূল চাবিকাঠি ছিল সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতে।

কিন্তু দুই ছেলে তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমানের মুক্তি ছাড়া কোন ধরণের আলোচনায় রাজী ছিলেন না খালেদা জিয়া।

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় সাব-জেলে খালেদা জিয়ার বৈঠক করেন। বৈঠকের একমাত্র উদ্দেশ্যে ছিল নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়াকে রাজি করানো।

বিএনপি’র সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমদ তখন কারাগারে ছিলেন। তবে ওই সময়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি পরে যে বইটি লিখেছেন, তাতে তিনি খালেদা জিয়া ও সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে দরকষাকষি নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনাও দিয়েছেন।

মি. আহমদ তাঁর ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ বইতে লিখেছেন, সেনাকর্মকর্তারা শুধু আলোচনার উপর নির্ভর করেননি। একই সাথে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ এবং ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার প্রস্তুতিও গ্রহণ করে।

দু’হাজার আট সালের ২৬শে জুন নাইকো দুর্নীতি মামলায় কারাগার থেকে আদালতে নেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়া এবং মওদুদ আহমদকে। শুনানীর সময় খালেদা জিয়া এবং মওদুদ আহমদ পাশাপাশি বসে ছিলেন। তখনই খালেদা জিয়ার সঙ্গে মওদুদ আহমদের কিছু কথা হয়।

খালেদা জিয়াকে উদ্ধৃত করে মওদুদ আহমদ তাঁর বইতে লিখেছেন, “নাইকো মামলায় এজলাসে আমি ছিলাম তাঁর পাশে। চিকিৎসার জন্য তাঁর দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠানো না হলে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে কোন আলোচনায় তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আমার সাথে আলোচনার সময় তিনি এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন।”

“বেগম জিয়া আমাকে বললেন যে সেনা অফিসাররা মাঝরাতে এসে নানা কথা বলছেন ও নানা শর্ত দেখাচ্ছেন।”

কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে দরকষাকষির এক পর্যায়ে সেনা কর্মকর্তারা ছোট ছেলে আরাফাত রহমানকে মুক্তি দিতে সম্মত হলেও তারেক রহমানের ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজী হননি।

কিন্তু খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন উভয় ছেলের মুক্তি এবং তাদের বিদেশে চিকিৎসা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।