শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য একটাই, তিনি এই দেশ ও জাতির জন্য সত্যি কিছু করতে চেয়েছেন এবং করেছেনও। এই দেশে নিরাপদ থাকতে চাইলে একটাই সহজ পথ আছে, কিছুই করবেন না। কিছু না করলে আপনি নির্দোষ, নির্ভুল, প্রায় ফেরেস্তা। কিন্তু কাজ শুরু করলেই সমস্যা। কাজ মানেই সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত মানেই ভুলত্রুটি। আর তখনই আপনি খারাপ, অযোগ্য, জঘন্য।
একবার তাকিয়ে দেখুন নিজের অফিসে, নিজের চারপাশে। যে লোকটা কাজ বোঝে, ফাঁকি দেয় না, দায়িত্ব নেয়, তাকেই সকল কাজ ধরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা সে দৌড়ায়, ফাইল সামলায়, সমস্যা মেটায়। আর যেদিন একটু ভুল হয়, সেদিনই তার দিকে আঙুল উঠে। যাদের কাজ সে করে দিয়েছে, তারাই তখন জ্ঞান দিতে আসে, নীতিকথা শোনায়। অথচ যে লোকটা কাজই করে না, যে চা খায়, গল্প করে, সময় কাটায়, সে দিব্যি নিরাপদ। তার কোনো ভুল নেই, কারণ তার কোনো কাজই নেই।
সে এক কথায় ফেরেস্তা। এই সমাজে আসলে দক্ষতা নয়, কর্ম নয়, সততা নয় একমাত্র মানদণ্ড হলো কাজ না করা। তাই সরকারি অফিসে ফাঁকিবাজের অভাব নেই। চেয়ার গরম রাখা এখানে কর্মক্ষমতার প্রমাণ, ফাইল আটকে রাখা এখানে বুদ্ধিমত্তা। যারা কাজ করে, তারা শত্রু বানায়; যারা কিছু করে না, তারা সবার প্রিয়। দেশ চালানোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।
নেতৃত্ব মানেই দায়, দায় মানেই ভুলের ঝুঁকি। আর সেই ঝুঁকি নিতে রাজি লোক কম। শেখ হাসিনা সেই ঝুঁকি নিয়েছেন বলেই তাকে হিসাব দিতে হয়, প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। যারা কিছুই করে না, তারা ইতিহাসে নিষ্পাপ, সমালোচনার ঊর্ধ্বে। এই সমাজে তাই সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থান হলো নিষ্ক্রিয়তা। কিছু না করা মানেই মহান হওয়া। আর যারা কিছু করতে চায়, তাদের ভাগ্য হলো গালি, কটাক্ষ আর কৃতজ্ঞতাহীনতার ভার বয়ে চলা।


