ঢাকারবিবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপির নতুন আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগের কৌশল

মোঃ সামিউল ইসলাম
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৪ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন করে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজপথে নামা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে বিএনপির এই নতুন আন্দোলন ঘিরে শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটি রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক—তিন স্তরেই নানা কৌশল গ্রহণ করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রধান কৌশলগুলোর একটি হচ্ছে বিএনপিকে ‘দুর্বল ও বিভক্ত’ হিসেবে উপস্থাপন করা। দলটির শীর্ষ নেতারা নিয়মিত বক্তব্যে দাবি করছেন, বিএনপির ঘোষিত আন্দোলনের পেছনে জনসমর্থন নেই এবং দলটি সাংগঠনিকভাবে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, বিএনপি আগেও বহু আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই সফল হয়নি।

একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে বিএনপির অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার বয়ানকে সামনে আনছে। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়েছে এবং এখন সরকারের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করা। এই বয়ান দিয়ে সরকার রাজপথের আন্দোলনের বিপরীতে ‘রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা’কে জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

প্রশাসনিক পর্যায়েও সতর্কতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রস্তুত’ থাকার নির্দেশনার কথা প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে না, তবে নাশকতা বা সহিংসতার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে সরকার আগেভাগেই আন্দোলনের পরিসর সীমিত করার বার্তা দিচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো বিরোধী আন্দোলনকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে তুলে ধরা। আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করছেন, নির্বাচন নিয়ে কিছু পশ্চিমা দেশের আপত্তি থাকলেও সরকার কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃত এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন বার্তাকে সামনে এনে সরকার বোঝাতে চাইছে যে বিএনপির আন্দোলনের আন্তর্জাতিক সমর্থন নেই।

সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ মাঠপর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে চাইছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা হচ্ছে, নিয়মিত সভা ও সমাবেশের মাধ্যমে দলকে চাঙ্গা করা হচ্ছে। বিএনপির যেকোনো কর্মসূচির বিপরীতে পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে, যাতে রাজপথ পুরোপুরি বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে না যায়।

এছাড়া সরকারপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখাও আওয়ামী লীগের কৌশলের অংশ। জাতীয় পার্টিসহ মিত্র দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে, যাতে বিরোধী আন্দোলনের বিপরীতে একটি দৃশ্যমান রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করা যায়।

অন্যদিকে, বিএনপির আন্দোলনকে ‘সহিংসতা নির্ভর’ হিসেবে চিত্রিত করাও সরকারের পুরোনো কিন্তু কার্যকর কৌশল। অতীতের আন্দোলনে সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপির কর্মসূচি মানেই জনভোগান্তি ও অস্থিরতা। এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে আন্দোলন নিয়ে অনীহা তৈরি করাই লক্ষ্য বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে, বিএনপির নতুন আন্দোলনকে সরাসরি দমন নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করে তোলাই আওয়ামী লীগের মূল কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসনিক সতর্কতা, রাজনৈতিক বয়ান, সাংগঠনিক শক্তি ও কূটনৈতিক অবস্থান—এই চার স্তরের সমন্বয়েই সরকার বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চূড়ান্তভাবে বিএনপির আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নির্ভর করবে মাঠের বাস্তবতা, জনসম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, আসন্ন রাজনৈতিক সংঘাতকে সামনে রেখেই কৌশল সাজাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।