বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের একটি আসনের উপনির্বাচনে পরাজিত হয়েও আলোচনায় থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলমকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে, যাতে জড়িয়ে পড়েছে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারাও।
ইউটিউবে বিচিত্র অভিনয়, গান আর নাচ দেখিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনায় আসা মিস্টার আলম হিরো আলম নামে সারাদেশে সুপরিচিত।
বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত।
গত সপ্তাহে বগুড়ার দুটি আসনে উপনির্বাচন করে তিনি পরাজিত হয়েছেন। তবে এর মধ্যে একটি আসনে মাত্র সাড়ে আটশ ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর তাকে ‘হারিয়ে দেয়া হয়েছে’ বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে থেকেই হিরো আলমের পক্ষে বিপক্ষে পোস্ট ও মন্তব্যে সয়লাব হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
শেষ পর্যন্ত মিস্টার আলমের নাম উঠে আসে ক্ষমতাসীন আওয়াম লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তৃতাতেও।
তবে তারা যেভাবে মিস্টার আলমকে তুলে ধরেছেন তাতে নাগরিক হিসেবে তার সাংবিধানিক অধিকারকে কটাক্ষের পাশাপাশি তাকে হেয় করার প্রবণতাও প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
আর এটি শুধু নির্বাচনের পরেই নয়, নির্বাচনের প্রচারণার সময়েও তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য কি-না এমন প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে বারবার। তখন এর জবাবও দিয়েছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত সিনিয়র রাজনীতিকদের পক্ষ তাকে হেয় করে দেয়া বক্তব্যগুলোর তীব্র সমালোচনা করে হিরো আলম বলেছেন তিনি কারও কাঁধে ভর দিয়ে এ পর্যায়ে আসেননি। বরং পরিশ্রম ও সংগ্রাম করেই তিনি এটি অর্জন করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিতি সানজানা বলছেন সাংবিধানিক শর্তগুলো পূরণ করতে পারলে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করা যে কোনো নাগরিকের অধিকার এবং হিরো আলম বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সেসব শর্ত পূরণ করেই নির্বাচন করেছেন।


