কয়েক বছর আগে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম হঠাৎ করেই হিরো আলমকে বাংলাদেশের শীর্ষ শিল্পী হিসেবে প্রচার শুরু করে। এরপরই তিনি মূলত বাংলাদেশেও আলোচনায় উঠে আসেন।
তার ইউটিউব চ্যানেলের বিপুল সংখ্যক সাবস্ক্রাইবার তাকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমেও আলোচিত করে তোলে। একই সঙ্গে তাকে নিয়ে হাস্যরসও শুরু হয়।
২০২২ সালের জুলাইতে তার গাওয়া একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ডেকে নিলে তিনি আবারো আলোচনায় আসেন।
পরে এক সাক্ষাতকারে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে তাকে গান গাইতে নিষেধ করে তার ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতায়’ হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
পুলিশ তার ‘হিরো’ নাম পাল্টানোর নির্দেশ দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ অবশ্য তখন বলছে, হিরো আলমকে ‘বিকৃতভাবে’ গান প্রচার করতে নিষেধ করেছে তারা।
মিস্টার আলমের বিরুদ্ধে তার সমালোচকদের অভিযোগ যে তিনি বিকৃত করে গান প্রচার করেন।
তবে আলোচনা সমালোচনা যাই হোক তার গান, ভিডিও- সবকিছুই ইউটিউবে ব্যাপক প্রচার পেয়ে যায়।
এর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচন করেও আলোচনায় আসেন তিনি।
দুই দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন ২০১৮ সালের নির্বাচনে। সেবার তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নও পেয়েছিলেন।
সর্বশেষ সংসদের উপনির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একটি আসনে মাত্র সাড়ে আটশ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।
কী বলেছেন ওবায়দুল কাদের ও মির্জা আলমগীর
শনিবার ঢাকায় এক সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তৃতায় উঠে আসে হিরো আলম প্রসঙ্গ।
তিনি দাবি করেন যে জাতীয় সংসদকে খাটো করতে বিএনপি মো. আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছিল।
তার বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, “….. হিরো আলম এখন জিরো হয়ে গেছে। হিরো আলমকে বিএনপি নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে। তারা সংসদকে ছোট করার জন্য হিরো আলমকে প্রার্থী করেছে। অবশেষে ফখরুলের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।”
ওইদিনই নয়াপল্টনে এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথাতেও উঠে আসে হিরো আলম প্রসঙ্গ।
তিনি বলেছিলেন “আজ প্রমাণ করেছে সে, এই আওয়ামী লীগ হিরো আলমের কাছেও কতটা অসহায়। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে জিততে হয়।”
কিন্তু এরপরই নতুন করে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয় যে দুই নেতাই হিরো আলমকে অসম্মানিত ও হেয় করে বক্তব্য দিয়েছেন।
জবাব দিয়েছে হিরো আলম নিজেও।
শনিবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তাকে নিয়ে নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছে মিস্টার আলম।
ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের বিষয়ে হিরো আলম বলেন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করেছেন এবং তাকে বিএনপি দাঁড় করিয়ে দেয়নি।
“ওবায়দুল কাদের স্যার হিরো আলমকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন। হিরো আলমকে নাকি বিএনপি দাঁড়িয়ে (দাঁড় করিয়ে) দিয়েছে। বিএনপির কোনো সাইনবোর্ড নিয়ে কি আমি ভোট করেছি? বিএনপির কেউ কি মাঠে ছিল? আমার পাশে ছিল?,” প্রশ্ন করেন মিস্টার আলম।
মিস্টার আলম আরও বলেন যে, “ওবায়দুল কাদের স্যার বলেছেন, হিরো আলম পার্লামেন্টে গেলে নাকি পার্লামেন্ট ছোট হবে। আমি যদি পার্লামেন্টে গেলে পার্লামেন্ট ছোট করা হয় তবে যখন মনোনয়ন কিনছি, তখন কিন্তু আপনাদের বলা উচিত ছিল, হিরো আলমের কাছে যেন মনোনয়ন বিক্রি করা না হয়”।
“আপনারাই বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশ, সবাই নির্বাচন করতে পারবে। সবার যদি নির্বাচন করার কথা আইনে থাকে, তাহলে আমি ভোটে দাঁড়ালে সংসদ ছোট হবে কেন? তাহলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে আইন করতে হবে”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য প্রসঙ্গে হিরো আলম বলেন “মির্জা আলমগীর বলেছেন, এই সরকার এখন অসহায় হয়ে গেছে। এই সরকার অসহায় হয়েছে কি না, আমি জানি না। তবে আমি হিরো আলম যে অসহায় হয়েছি, এই প্রশ্নের জবাব কে দেবে? আমার ভোটের ফলাফল যে কেড়ে নেওয়া হলো, এই প্রশ্নের জবাব কে দেবে?”
এর বাইরেও হিরো আলমের কিছু বক্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে।


