দেশের জ্বালানি, প্রশাসন ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আর্থিক লোপাটের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল ও গ্যাস মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এই সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নামকাওয়াস্তে কোম্পানির মাধ্যমে বেশি দামে প্রায় ২ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মাধ্যমে কয়েক মিলিয়ন টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে, বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে লিটারপ্রতি প্রায় ২০ টাকা করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় দেখিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে।
প্রশাসনিক খাতেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ লোপাটের অভিযোগও সামনে এসেছে, যা প্রশাসনিক দুর্নীতির একটি বড় চিত্র তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেছেন সমালোচকরা।
বিদ্যুৎ খাত নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে লোডশেডিং তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা অপব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষ থেকে এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


