দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ২৬৩ শিশু উপসর্গজনিত কারণে এবং আরও ৫৪ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সবমিলিয়ে ৩১৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং টিকাদান কর্মসূচির ব্যাহত হওয়া এবং সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই এই সংকটের মূল কারণ।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি। মোহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে সময়মতো টিকা সংগ্রহে বিলম্ব, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া ইউনিসেফ থেকে সরাসরি টিকা সংগ্রহের পরিবর্তে বিকল্প প্রক্রিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতে অতীত সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ওই সময়ে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম, ব্যাপক সচেতনতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হামসহ বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং এই ব্যবস্থাকে সমর্থন দেওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোরও দায় রয়েছে। তারা বি,এন,পি এবং জামাত-ই ইসলামি সমমনা দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় জোরদার করা, টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।


