হাদিকে গু’লি করার পিস্তলের সাথে আমাদের সদ্য সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত পিস্তলটি সম্পূর্ণ একই মডেল ও কার্তুজের তাই চাইবো আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের পিস্তলটি একই মডেল এবং বুলেট ব্যবহার হয়।
হাদিকে ৭.৬৫ ক্যালিবারের গুলি ব্যবহার করে ফায়ার করা হয়ে এটি বাংলাদেশে এনপিবি (নন-প্রোহিবিটেড বোর) হিসাবে দেখা হয় যা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অনেক জনপ্রিয় পিস্তল তবে এটি তেমন শক্তিশালী নয় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত।
তাইতো কাছে থেকে গুলি করার পরও বুলেট মাথায় আটকে যায় অপরদিকে . 9MM পিস্তল হলে থেঁতলে যেতো যা হয় নি।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এনপিবি পিস্তল কী ধরনের আগ্নেয়া’স্ত্র?
চুলুন জেনে নেওয়া যাক-
সদ্য সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের কাছে থাকা পিস্তলটি বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এনপিবি (নন-প্রোহিবিটেড বোর) পিস্তল তাই সন্দেহের তীর যাওয়াটা স্বাভাবিক।রাজনৈতিক কারনে কত কিছু করে মানুষ। হতেই পারে সদ্য সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওসমান হাদির আসনে ইলেকশন করার ইচ্ছা আছে এবং উপদেষ্টা থাকা কালে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার রূপরেখাও হয়তো তৈরি করেছে তাই হাদিকে সরানো জুরুরি ছিলো-এমনটা হতেই পারে অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এনপিবি পিস্তল কী?
এনপিবি বা নন-প্রোহিবিটেড বোর পিস্তল হলো এমন এক ধরনের স্বল্পশক্তিসম্পন্ন আগ্নেয়াস্ত্র, যা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে বেসামরিক নাগরিকরাও ধারণ করতে পারেন। এটি মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি, জেলা প্রশাসনের সুপারিশ এবং আইন অনুযায়ী অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধভাবে লাইসেন্সযোগ্য।
এনপিবি আগ্নেয়াস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত পিস্তল, রিভলভার, রাইফেল বা শটগান সাধারণত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, শিকার বা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহার করা যায়। তবে এসব অস্ত্রের ব্যবহারে রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ এবং নিয়মিত নবায়নের বাধ্যবাধকতা।
কে পেতে পারেন এই লাইসেন্স?
২০১৬ সালে প্রণীত ‘অগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা’-এর ৩২-বিধি অনুযায়ী কিছু শ্রেণির ব্যক্তি অস্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণে আয়কর সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পান। এদের মধ্যে রয়েছেন—
* জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার
* মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী
* সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি (যেমন: মন্ত্রণালয় বা সরকারের উপদেষ্টা যাঁরা মন্ত্রিপর্যায়ের মর্যাদা ভোগ করেন)
এই বিধিমালার আওতায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আইনত অস্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণের যোগ্য হন। জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রেরিত অনাপত্তি চিঠির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে লাইসেন্স মঞ্জুর করে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘আবেদনকারীর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগের অনাপত্তি নির্দেশক্রমে জ্ঞাপন করা হলো।’ এতে আবেদনকারীর বাবা-মায়ের নাম ও গ্রামের ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়।
তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাগে পিস্তলের ম্যাগাজিন ধরা পড়ার পর উঠে এসেছে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য।
তাঁর কাছে থাকা এনপিবি (নন-প্রোহিবিটেড বোর) পিস্তলটি সরকারের আইন অনুযায়ী বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কিন্তু সেটির যোগ্যতা তার নেই বয়স,কর দেওয়া থেকে শুরু করে সকল শর্ত পূরণ করে না।
তাই সদ্য সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করাটা জুরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ পাশাপাশি সেটির আগে সেই পিস্তলটি লাইসেন্স সহ জব্দ করতে বিশেষায়িত ফরেনসিক টেস্টের জন্য পাঠানো আরো গুরুত্বপূর্ণ ও জুরুরি।


