৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে
দি ইনসাইন ইয়ুথ ক্লাবে দিনব্যাপী কর্মসূচি
৪ই জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ৪ই জানুয়ারী দি ইনসাইন ইয়ুথ ক্লাবে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সজিব ভুইয়া।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্রলীগের গৌরবময় ইতিহাস, আদর্শিক চেতনা ও ভবিষ্যৎ করণীয়কে সামনে রেখে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। ছাত্ররাজনীতিকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, শিক্ষাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী করতে নেতাকর্মীদের নতুন করে উদ্বুদ্ধ করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
কর্মসূচির শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। উদ্বোধনী পর্বে ছাত্রলীগের ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠালগ্নের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে।
সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক সজিব ভুইয়া। আলোচনা সভায় বক্তারা ছাত্রলীগের ৭৮ বছরের সংগ্রামী ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগঠনের ভূমিকা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্রসমাজের দায়িত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখবেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেবল একটি ছাত্রসংগঠন নয়, এটি দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন এবং ছাত্রলীগের দীর্ঘ পথচলার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। কেক কাটার পর নেতৃবৃন্দ সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন।
দুপুর দেড়টায় শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে ছাত্রলীগের চেতনা ও ইতিহাস তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের মতে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিকাল সাড়ে ৩টায় শিক্ষামূলক ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক একটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে মাদকবিরোধী সচেতনতা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হবে। বক্তারা বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।
বিকাল ৫টায় সমাপনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সজিব ভুইয়া। তাঁরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাবেন এবং সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করবেন।
সংগঠনের নেতারা জানান, ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নতুন উদ্দীপনা ও অঙ্গীকার নিয়ে আগামীর পথচলায় এগিয়ে যাবে। ঐতিহ্য, আদর্শ ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভবিষ্যতেও দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে—এমন প্রত্যাশাই আয়োজকদের।


