সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখন রাজনীতিতে ফিরবে, তখন তারা পিঁপড়ার মতো ধীরে ধীরে আসবে না; বরং তারা আসবে সুনামির মতো বা প্রচণ্ড ঝড়ের গতিতে। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে ভারতের শক্তিশালী সমর্থন ও দলটির অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বড় ভূমিকা পালন করবে।
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ দেন তিনি।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে গোলাম মাওলা রনি বলেন, দলটির হাতে এখনো পর্যাপ্ত অর্থ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো তাঁদের নিজস্ব লোকবল সক্রিয়। রনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ কোনো গেরিলা কায়দায় নয়, বরং ‘মরুঝড় সাইমুমের’ মতো প্রচণ্ড শক্তিতে রাজপথে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আওয়ামী লীগ ফিরবে সুনামি বা মরুঝড় সাইমুমের গতিতে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি ‘সমঝোতা’র ফসল, তবে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি।
ক্ষমতায় থাকলেও নানা আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে অস্বস্তিতে আছে বিএনপি।
আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ভারত সব ধরনের কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে।
শেখ হাসিনা জেলখানায় গেলে সেই এলাকা ‘তীর্থকেন্দ্রে’ পরিণত হবে।
গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিকে একটি ‘সমঝোতা’র অংশ হিসেবে দাবি করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস, সেনাবাহিনী এবং ভারত, চীন ও আমেরিকার মতো দেশগুলো এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। তবে সমঝোতা যেভাবে হয়েছিল, ফলাফল সেভাবে আসেনি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপি বর্তমানে চরম অস্বস্তি ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও তেলের সংকটসহ অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলটি হিমশিম খাচ্ছে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে রনি বলেন, ভারত কৌশলগত কারণে এখনো আওয়ামী লীগের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল। আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য ভারত এখন সব ধরনের ‘সফট পাওয়ার’ ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। রনি মনে করেন, ভারত বর্তমানে নিজেদের ও আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে কিছুটা বিব্রত থাকলেও সুযোগ পেলেই তারা আওয়ামী লীগকে ফেরাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করবে।
শেখ হাসিনা সম্পর্কে গোলাম মাওলা রনি মন্তব্য করেন যে, ক্ষমতা হারানোর পর তাঁর সাহস ও প্রখরতা যেন আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফিরে জেলখানাতেও যান, তবে সেই জেলখানাটি একটি ‘তীর্থকেন্দ্রে’ পরিণত হবে। ওয়ান-ইলেভেনের মতো হাজার হাজার নেতাকর্মী সেখানে ভিড় জমাবে, যা বর্তমান সরকারের জন্য হবে এক বড় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
বক্তব্যের শেষ দিকে রনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনোভাবে ভারতের সাথে জামায়াতের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তবে বিএনপি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়বে। কারণ বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জামায়াত বর্তমানে বিএনপির চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে।


