২ অক্টোবর ২০১৮ সালে সৌদি আরবের প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাশোগি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি আরবের কনস্যুলেটে নিহত হন। ব্যক্তিগত কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজে তিনি ওই দিন কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর আর বের হননি। পরবর্তীতে তদন্তে প্রকাশ পায়, কনস্যুলেটের ভেতরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় ওঠে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত খাশোগি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট-এর নিয়মিত কলাম লেখক ছিলেন।
তুরস্কের তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানায়, সৌদি আরব থেকে বিশেষ একটি দল ওই দিন ইস্তাম্বুলে এসে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। প্রথমদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি অস্বীকার করলেও পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তারা স্বীকার করে যে কনস্যুলেটের ভেতরেই খাশোগির মৃত্যু হয়েছে। তবে হত্যার পেছনের নির্দেশদাতাদের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলতে থাকে।
জাতিসংঘের বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে এই হত্যাকাণ্ডকে “পূর্বপরিকল্পিত বিচারবহির্ভূত হত্যা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে সৌদি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এই ঘটনায় কয়েকজন সৌদি নাগরিককে অভিযুক্ত করা হলেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।
জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মানবাধিকার আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই হত্যাকাণ্ড বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।


