ঢাকাশনিবার , ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আওয়ামী লীগ সরকার না থাকলেও তাদের দেশের জন্য সাফল্য অব্যাহত আছে

মোঃ সামিউল ইসলাম
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য যুক্ত হলো আজ। আন্তর্জাতিক আদালতে বহুল আলোচিত নাইকো দুর্নীতি মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় এসেছে, যা দেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও আইনি বিজয়। এই রায়ে কানাডিয়ান তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানি নাইকোকে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো—রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় শেখ হাসিনা সরকার কতটা দৃঢ় ও আপসহীন অবস্থানে ছিল।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে জামায়াত-বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলে বাংলাদেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়, পরিবেশ বিপর্যস্ত হয় এবং স্থানীয় জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়ে। ওই সময় দায়িত্বে থাকা কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর চরম অবহেলা, অদক্ষতা ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল—যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং বিপুল অঙ্কের ঘুষ ও কমিশনের বিনিময়ে নাইকোর মতো একটি অদক্ষ কোম্পানিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে কাজের অনুমতি দেয়। অভিযোগ রয়েছে, তারেক রহমান, কোকোসহ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী এই দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এই মামলায় প্রয়াত খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনসহ একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এমপির নাম উঠে আসে, যা সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় এই মামলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশীয় আদালতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বছরের পর বছর ধরে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, আইনি প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরকার এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যায়। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া সহজ ছিল না, কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, বর্তমান অবৈধ ইউনুস সরকার ক্ষমতায় এসে এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে এক প্রহসনের রায় দেয়। এর মাধ্যমে দেশীয় আদালতে অভিযুক্ত প্রায় সবাইকে খালাস দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়, কারণ জনগণ মনে করেছিল—যারা দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং পরিবেশ ধ্বংস করেছে, তারা বিচারের মুখোমুখি হবে। কিন্তু দেশীয় পর্যায়ে বিচার ব্যাহত হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সত্য চাপা থাকেনি।

বিশ্ব আদালতে ঠিকই নাইকোর সেই অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে যে নাইকোর অবহেলা ও চুক্তিভঙ্গের কারণে বাংলাদেশ আর্থিক ও পরিবেশগতভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সেই কারণেই ক্ষতিপূরণ প্রদানের এই ঐতিহাসিক রায় এসেছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি নৈতিক ও আইনি বিজয়।

শেখ হাসিনা সরকার বছরের পর বছর ধরে যে অবস্থানে অটল ছিল, আজকের এই রায় তারই স্বীকৃতি। এই বিজয় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশ তার ন্যায্য অধিকার আদায়ে সক্ষম—যদি নেতৃত্বে থাকে দূরদর্শী ও সাহসী সরকার। অবশেষে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিজয় এসেছে, আর ইতিহাস সাক্ষী হয়ে রইল শেখ হাসিনা সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।