পাকিস্তান তার জন্মের পর থেকেই ভারতকে সহ্য করতে পারে না। ভারতের আয়তন পাকিস্তানের প্রায় চার গুণ, যা পাকিস্তান কখনোই মানতে পারেনি। পাকিস্তান শুরু থেকেই ভারতের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করেছে, বিশেষ করে কাশ্মীর দখল ও ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে। ১৯৪৭ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত পাকিস্তান ভারত দখলের স্বপ্নে কখনো সফল হয়নি। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ১১ বিলিয়ন ডলার। ভারতের সঙ্গে ব্যবসা না করলে বাংলাদেশও টিকে থাকতে পারবে না। ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা স্বাভাবিক। ভারত এখন আর ১৯৭১ সালের ভারত নয়; তাদের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ভারতের বিরোধিতা মূলত একটি জন্মগত মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা, যা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পাকিস্তান তাদের সংখ্যালঘু অঙ্গরাজ্যগুলোর মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের “গোলাম” মনে করেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তান ২৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আয় লুট করেছে, প্রায় ৪.৫২ বিলিয়ন ডলার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত মাত্র তিন মাসে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে, কিন্তু সরকার পরিচালনা করেনি। পাকিস্তান ২৩ বছর শোষণ চালিয়েছে, ভারত তিন মাসে সমস্যার সমাধান করেছে। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও পাকিস্তান তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে “ভারতের ষড়যন্ত্র” থিওরি প্রচার করে।
পাকিস্তান আফগানিস্তানকেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে। ১৯৫০ সাল থেকে সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত হয়েছে। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে আমেরিকার সাহায্যে পাকিস্তান পরিচালিত নৃশংসতা এখনও ইতিহাসে কালো অধ্যায়। পাকিস্তান আজও বেলুচিস্তান ও আফগান সীমান্তে সহিংসতা চালাচ্ছে। এই অবস্থার পরও বাংলাদেশের একদল ধর্মান্ধ ব্যক্তি পাকিস্তানপ্রীতি দেখায় এবং ভারতবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে। কিন্তু বাস্তবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একত্র হলেও ভারতের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। ভারতের সঙ্গে রাশিয়াসহ অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্রের সম্পর্ক ভারতের সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতে সক্ষম।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময় ভারত বাংলাদেশের অংশে হস্তক্ষেপ করেনি। রাঙামাটি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় জনগণ ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করলেও ভারত পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিজেদের অংশ বানায়নি। স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সরকার ভারত থেকে অর্থনৈতিক সাহায্য গ্রহণ করেছে, কিন্তু ভারত কোনো আধিপত্য বিস্তার করেনি। ভারতের অনুদানে নির্মিত রাস্তায় চলছে, কিন্তু কিছু দল আবার ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে।
ভারতবিরোধিতা মূলত রাজনৈতিক হাতিয়ার। পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা অন্যান্য মুসলিম দেশের তুলনায় ভারত কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হামলা বা শোষণ করেনি। ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও পুনর্গঠনে সাহায্য করেছে। ভারতের নীতি ও সাহায্য বাংলাদেশের জন্য সুদূরপ্রসারী সুবিধা এনেছে। ভারতের উন্নতি এবং সাফল্য, যেমন মহাকাশ অভিযান, অর্থনৈতিক শক্তি ও রিজার্ভ, বাংলাদেশের কিছু ধর্মান্ধ জনগণ সহ্য করতে পারে না। ভারতবিরোধীতা ছাড়া তাদের রাজনৈতিক অর্জন নেই।
ভারতের সঙ্গে তুলনায় পাকিস্তানের অবস্থান খুব দুর্বল। পাকিস্তান এখনও বেলুচিস্তান ও আফগান সীমান্তে সহিংসতা চালাচ্ছে। পাকিস্তান ও ভারতের তুলনা করলে দেখা যায়, ভারতের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি অনেক বেশি। ভারতের সহানুভূতি ও নীতিশীল আচরণ ইতিহাসে অনন্য। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ভারতের সহায়তায়, কিন্তু ভারত কোনো নিয়ন্ত্রণ দাবি করেনি। ভারতবিরোধীতা আসলে ভিত্তিহীন, এবং বাংলাদেশের জন্য কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
ভারতবিরোধী শক্তি, যেমন হেফাজত, জামায়াত ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠী, পাকিস্তানের স্বপ্নের সঙ্গে মিল রেখে “দিল্লী না ঢাকা” স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। তবে ভারত একদিনও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো আধিপত্য বিস্তার করেনি। ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও পুনর্গঠনে সাহায্য করেছে, যা ইতিহাসে অনন্য। পাকিস্তানের তুলনায় ভারতের নৈতিক ও সামরিক শক্তি অনেক বেশি। ভারতবিরোধীতা শুধুই রাজনৈতিক হাতিয়ার এবং তা বাস্তবে কোনো ফল দেয় না।
সত্য সবসময় সুন্দর। ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের কল্পনা মূলত ভিত্তিহীন। ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে, ভারতবিরোধীতা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত একটি কৌশল, যা বাস্তবে বাংলাদেশের ক্ষতি করতে পারে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি ভারতের নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনে নিশ্চিত হয়েছে।


