শেখ হাসিনা বলেন, “ঢাকা ও দিল্লি নতুন যাত্রা শুরু করেছে, উভয় দেশ রূপকল্প ২০৪১ ও বিকশিত ভারত ২০৪৭ অনুসরণ করে একটি স্মার্ট বাংলাদেশ নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে”।
তিনি বলেন, “তারা সমঝোতা স্মারক সম্পাদন করেছেন, বেশ কয়েকটি নবায়ন করেছেন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার জন্য ঘোষণা দিয়েছেন।”
বাংলাদেশের সরকার প্রধান বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারত ‘ডিজিটাল পার্টনারশিপ’ এবং ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সবুজ অংশীদারিত্ব’ এর জন্য একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে সম্মত হয়েছে”।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ভুমিকার কথা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, “ভারত আমাদের প্রধান প্রতিবেশী, বিশ্বস্ত বন্ধু এবং আঞ্চলিক অংশীদার”।
গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী মোদির শপথ অনুষ্ঠানে তিনি অন্যান্য যোগ দিয়েছিলেন। সে কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি একই মাসে নজিরবিহীনভাবে দ্বিতীয়বারের জন্য নয়া দিল্লি সফর করছি।”
তিনি বলেন, “এটি আমাদের দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রতিনিয়ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।”
ই-মেডিকেল ভিসা চালুর ঘোষণা মোদির
বাংলাদেশিদের জন্য ই-মেডিকেল ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। শেখ হাসিনার সাথে বৈঠক শেষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘোষণা দেন।
শেখ হাসিনাকে পাশে রেখে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মি. মোদি বলেন, “বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের সুবিধার্থে রংপুরে একটি নতুন সহকারী হাইকমিশন খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
ভারতের সরকার প্রধান বলেন, “আমরা সংযোগ, বাণিজ্য ও সহযোগিতাকে আমাদের ফোকাস হিসাবে রেখেছি। গত ১০ বছরে ১৯৬৫ সালের আগে থেকে তৈরি হওয়া সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করেছি।
নতুন সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে মি. মোদি বলেন, “আমরা এখন ডিজিটাল এবং জ্বালানি সংযোগের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেব। যা উভয় দেশের অর্থনীতির গতি বাড়াবে। আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য উভয়পক্ষই আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছি।
তিনি বলেন, আগামীতে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।
বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগি ভারত। দুই দেশের মধ্যে এই সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে বলেও প্রত্যাশা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মি. মোদি।
নয়া দিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন মি. মোদি।
দুই দিনের সফরে শুক্রবার বিকেলে ভারত পৌছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্র্রী শেখ হাসিনা।
সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ অনেকের সাথেই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে শনিবার সন্ধ্যায় দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


