প্রবাসে অবস্থানরত কয়েকজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কিছু বক্তব্য ও পরামর্শ দেশে মব সংস্কৃতিকে উসকে দিতে পারে, যা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষ করে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন ও পিনাকী ভট্টাচার্যের কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এসব বক্তব্য জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে উৎসাহিত করতে পারে। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দেশপ্রেমের প্রশ্নও উত্থাপন করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, বাংলাদেশে যদি মব সংস্কৃতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে তা সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে গৃহযুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে দেশকে ঠেলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক শক্তিগুলো, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত, কৌশলগতভাবে লাভবান হতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
এ প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করেন, বিভাজনমূলক বক্তব্য ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে সব দলের উচিত সংলাপ ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে এগিয়ে আসা।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখেও দায়িত্বশীল ভাষা ও আচরণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সামাজিক শান্তি অক্ষুণ্ন থাকে।


