ঢাকারবিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৩
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপির দ্বিতীয় দফা অবরোধে উত্তরায় ককটেল হামলা, বগুড়ায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

মোঃ সামিউল ইসলাম
নভেম্বর ৫, ২০২৩ ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নির্দলীয় সরকার এবং গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিএনপির ডাকা দ্বিতীয় দফা সর্বাত্মক অবরোধের প্রথম দিনে ঢাকার উত্তরায় ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঘোষিত দ্বিতীয় দফা সর্বাত্মক অবরোধের প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ও যান চলাচলে স্থবিরতার চিত্র দেখা গেছে। রোববার সকাল থেকে সড়কপথে যান চলাচল সীমিত থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কিছু এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে দেখা যায়।

অবরোধ শুরুর আগের দিন শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রাজধানী ঢাকায় সাতটি এবং ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ভোলায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, রোববার ভোরের দিকে ঢাকার শ্যামপুর, ডেমরা ও মিরপুর এলাকায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর গাজীপুরে আরও একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় নিউমার্কেট এলাকায় একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। প্রায় একই সময়ে এলিফ্যান্ট রোড, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান এলাকায় আরও তিনটি বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। এছাড়া রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, গাজীপুরের ভোগরা ও ভোলার চরফ্যাশন এলাকাতেও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার সকালে উত্তরা পশ্চিম থানার একটি টহল দল আবদুল্লাহপুর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হলে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে কেএম হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বগুড়ায় বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সকালে বগুড়া সদর থানার তেলিপুকুর এলাকায় বিএনপি কর্মীরা ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ও পাটকেল নিক্ষেপ করা হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) আটক করেছে। শনিবার রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। র‍্যাব জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া শনিবার রাতে বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর এবং ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্সকেও আটক করা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর থেকে গত এক সপ্তাহে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা আব্বাসসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। এছাড়া তিনজন যুগ্ম মহাসচিব, একাধিক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ককেও আটক করা হয়েছে। বিএনপির দাবি, এ পর্যন্ত কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় ঢাকায় মোট ৮৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ২ হাজার ১৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছে বিএনপি। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক বিবৃতিতে আটক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, একদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও অন্যদিকে বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলেও অবরোধসহ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি।

অবরোধের প্রথম দিনে রাজধানীর ধানমণ্ডি, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, গুলশান, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় সকালবেলা যান চলাচল কম দেখা গেছে। সীমিত সংখ্যক বাস, ট্রাক ও পিকআপ চলাচল করলেও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। তবে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচল ছিল প্রায় স্বাভাবিক।

দূরপাল্লার যান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছাড়তে দেখা যায়নি। যাত্রী সংকটের কারণে বাস ছাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে কমলাপুর রেল স্টেশনে ট্রেন চলাচল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল কম।

অবরোধকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথগুলোতে পুলিশ ও র‍্যাবের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। বিভিন্ন চেকপোস্টে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।