রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে এই মুহূর্তে আলোচনায় “লেপার্ড টু” বা “এমওয়ান অ্যাব্রামস” শব্দগুলো।
প্রথমটি জার্মানির তৈরি ট্যাঙ্ক, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা ও সিদ্ধান্তহীনতার পর শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনে পাঠাতে রাজি হয়েছে দেশটি।
জার্মানি ১৪টি লেপার্ড টু ট্যাঙ্ক সহায়তা দেবে ইউক্রেনকে, এমন ঘোষণার ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র জানায়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারাও ইউক্রেনকে ৩১টি এমওয়ান অ্যাব্রামস ট্যাঙ্ক পাঠাবে।
এই দুই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি বলেছেন-‘এটি বিজয়ের পথে একটি গূরুত্বপূর্ণ ধাপ।’’
সবমিলে ইউরোপ থেকে অন্তত ১০০টি ট্যাঙ্ক পাওয়ার আশা করছে ইউক্রেন। যা রাশিয়ার কাছ থেকে দখল হওয়া অঞ্চল উদ্ধার ও যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি তাই?
ট্যাঙ্ক কীভাবে পার্থক্য গড়বে?
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত ৩০টির বেশি দেশ ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
তবে এই পুরোটা সময় তারা ব্যবহার করেছে টি-৭২ ট্যাঙ্ক, সোভিয়েত আমলের অন্তত ৩০ বছরের পুরনো এই ট্যাঙ্কগুলো ইউক্রেনে আগে থেকেই ছিল।
এর পাশাপাশি পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র প্রায় আরো ২০০টি এই টি-৭২ ট্যাঙ্ক ইউক্রেনকে সরবরাহ করেছে।কিন্ত যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার পর থেকে বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকি পশ্চিমাদের কাছে আধুনিক ট্যাঙ্ক চেয়ে আসছিলেন। এবং তিনি দাবী করেন ৩০০টি ট্যাঙ্ক পেলে ইউক্রেন রাশিয়ান বাহিনীকে হটিয়ে তাদের হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
ট্যাঙ্ক হল সাঁজোয়া যান, যুদ্ধের ভারী সমরাস্ত্র। যা অনেক দূর থেকে যেমন গোলা বর্ষণ করতে পারে, আবার শত্রুর ট্যাঙ্কও ধ্বংস করতে পারে।
এখন আক্রমণাত্মক যুদ্ধের সময় অত্যাধুনিক লেপার্ড টু ও এমওয়ান অ্যাব্রামস ট্যাঙ্কগুলি ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞ এবং মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মাহমুদ আলী।
“যারা এগুলো ব্যবহার করবে তাদের যদি প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং সে সমস্ত সরঞ্জাম দরকার সেগুলো যদি সরবরাহ করা হয় তাহলে এগুলো দিয়ে বেশ কার্যকর আক্রমণাত্মক অভিযান চালানো সম্ভব যার সামনে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’’
মি. আলী বলছিলেন, পশ্চিমা নেতাদের আশঙ্কা শীতকাল শেষ হতেই রুশ বাহিনী একটা বড় আক্রমণে যাবে, আর এই সময় তাদের ট্যাঙ্ক দেয়ার উদ্দেশ্য যাতে সেই আক্রমণের আগেই ইউক্রেন পাল্টা আক্রমণ করে তাদের হারানো অঞ্চল উদ্ধার করে নিতে পারে।
তাই এই সময় ইউক্রেনে ট্যাঙ্ক পাঠানো রাজনৈতিক ও সামরিক দু’দিক থেকেই গূরুত্বপূর্ণ।


