ঢাকাসোমবার , ২২ জানুয়ারি ২০২৪
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শেখ হাসিনার নতুন সরকারকে পশ্চিমাদের ‘অভিনন্দন’

মোঃ সামিউল ইসলাম
জানুয়ারি ২২, ২০২৪ ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘গ্রহণযোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। অথচ সেই দেশগুলোই পরে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে বলে বলছে সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মাহমুদ চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারের মতো গঠিত সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে ওইসব দেশের রাষ্ট্রদূত বা প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে এমন কোনও ‘অভিনন্দন বার্তা’ দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়।

এরপর ১৮ জানুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। এই অভিনন্দনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কারণ, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ নির্বাচনকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হয়নি’ বলে বিবৃতি দিয়েছিল।

এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনের মান নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনার পর সরকারকে যে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে, সেটি আসলে কী বার্তা বহন করছে?

অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এসব অভিনন্দন মূলত কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ, যার সঙ্গে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানের কোনও মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। তাদের মতে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসানীতি বা শ্রমনীতি ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সেটিও পুরোপুরি কেটে গেছে—এমন ধারণার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেশ সরব দেখা যায়। তারা ধারাবাহিকভাবে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছিল।

তবে সেই আহ্বান উপেক্ষা করেই বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো নির্বাচন বর্জন করলে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এবং টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করে।

নির্বাচনের পরদিনই চীন, রাশিয়া, ভারতসহ কয়েকটি দেশ শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানায়। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো তখন ভিন্ন অবস্থান নেয়। অভিনন্দন জানানোর পরিবর্তে তারা আলাদা আলাদা বিবৃতি দিয়ে জানায় যে, এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মানদণ্ড পূরণ করেনি বলে তারা মনে করে।

নির্বাচনের পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, তারা বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন জানায়। একই সঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, হাজারো বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী গ্রেপ্তার এবং ভোটের দিন বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের খবর যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করেছে। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ না থাকায় হতাশাও প্রকাশ করা হয়।

একই দিনে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গণতান্ত্রিক নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য, মুক্ত ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। তাদের বিবৃতিতে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় হতাশা জানিয়ে অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।

এসব বিবৃতির পর টানা চতুর্থ মেয়াদে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘বৈধতার সংকটে’ পড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও বলতে শোনা যায়, নির্বাচন বাতিলের ষড়যন্ত্র চলছে এবং চক্রান্ত এখনও শেষ হয়নি।

তবে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়। ১৭ জানুয়ারি নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। বৈঠক শেষে তিনি জানান, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

এরপর জানা যায়, জাতিসংঘের মহাসচিব ও কমনওয়েলথ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও জানানো হয়, বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

কিন্তু এসব অভিনন্দনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য কী—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর অভিনন্দন জানানো আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি প্রচলিত রীতি। এতে নির্বাচন নিয়ে আগে দেওয়া পর্যবেক্ষণ বা সমালোচনার অবস্থান বদলে যায় না। একদিকে তারা তাদের মূল্যায়ন প্রকাশ করে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও কূটনৈতিক যোগাযোগও চালু রাখে।

অনেকের মতে, অতীতেও বিতর্কিত নির্বাচন সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রেখে ক্ষমতার মেয়াদ পূর্ণ করেছে। সাংবিধানিকভাবে সরকার গঠিত হওয়ায় কূটনৈতিক স্বীকৃতি নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি।

তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর ঘোষিত ভিসানীতি ও শ্রমনীতি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি দূর হয়েছে—এমনটি মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে জানিয়েছিল, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে যারা বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভিসানীতি প্রয়োগ করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচন ‘গ্রহণযোগ্য’ না হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে পশ্চিমা দেশগুলো ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়, তা বুঝতে আরও সময় লাগবে। আপাতত অভিনন্দন বার্তাগুলোকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি চাপও অব্যাহত রাখার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।