সেতু ভবনে হামলা ও নাশকতার ঘটনায় রিজভী-পরওয়ারসহ ছয়জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বনানীতে সেতু ভবনে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের নাশকতা মামলায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সদ্য নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ছয়নজনকে রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ শেখ সাদীর আদালত এ আদেশ দেয়।
রিমান্ডে নেয়া অন্যরা হলেন- বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সদস্য সচিব মো. আমিনুল হক, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ সালাম।
আসামিদের আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোসহ ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক আবু সাইদ মিয়া।
এদিন, আসামিদের পক্ষে মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জয়নুল আবেদীন মেজবাহ, আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৮ জুলাই কাফরুল থানাধীন কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে নাশকতার মামলায় বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ ৮ জনের ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। তবে বৃহস্পতিবার নুরুল হক নুর ও মাহমুদুস সালেহিন বাদে অন্য আসামিদের বনানী থানার মামলায় রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে চলে আসা কোটা সংস্কার আন্দোলন ১৫ তারিখ থেকে সহিংস হয়ে ওঠে। ১৬ জুলাই থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতায় অনেক মানুষ হতাহত হন।
এর মধ্যে ১৮ জুলাই আন্দোলনকারীরা দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি দেয়। তাদের আন্দোলনে সর্বাত্মক সমর্থন দেয় বিএনপি ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। এ দিন ঢাকায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জ্বালিয়ে দেয়া হয় সেতু ভবন।
সহিংসতার ঘটনায় ১৫০ জন মৃত্যুর খবর বলা হচ্ছে।


