ঢাকাবুধবার , ২১ আগস্ট ২০১৯
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২১ আগস্ট হামলা: সংসদে একতরফা আলোচনা চালায় বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট
আগস্ট ২১, ২০১৯ ১:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২৩ দিন পর, অষ্টম জাতীয় সংসদের ১৩৩তম অধিবেশন বসে। ওই সময় সংসদে বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগ (আ.লীগ) হামলা-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সংলাপের জন্য দুই ডজনেরও বেশি প্রস্তাব উত্থাপন করে। তবে তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জামিরউদ্দিন সরকার এসব প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এর পরিবর্তে তিনি গ্রেনেড হামলা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ আলোচনার সুযোগ দেন।

এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। ফলে সংসদে একতরফাভাবে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলোর অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগ এই হামলার পেছনে জড়িত।

এই সংসদ অধিবেশন চলে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চার দিনের অধিবেশনের তৃতীয় দিনে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী গ্রেনেড হামলা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশ নেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (বর্তমানে এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত), জাতীয় পার্টির গোলাম হাবিব, বিকল্প ধারার মাহী বি চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, এবং বিএনপির আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য।

এর আগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে আওয়ামী লীগের ১৮ জন সংসদ সদস্য নোটিশ দেন, তবে স্পিকার তা খারিজ করে দেন। নোটিশ খারিজ করার সময় স্পিকার বলেন,
“নোটিশগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিষয়টি একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মাধ্যমে তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারপোল ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও মামলা করা হয়েছে।”

সংসদে আলোচনার সময় রাজবাড়ী-১ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ কাহিয়াম আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বলেন,
“আওয়ামী লীগের কর্মীরা মঞ্চ থেকে নামার সময়ই বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে—এটা রহস্যজনক।”

ঝিনাইদহ-৩ আসনের বিএনপি এমপি শহীদুল আলম বলেন,
“তারা ২২টি লাশ ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসতে চায়।”

নওগাঁ-৩ আসনের এমপি শামসুল আলম প্রামাণিক বলেন,
“বোমা কখনো ট্রাকে পড়ে না, সব সময় বাইরে পড়ে—এটাও সন্দেহজনক।”

ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি মো. মশিউর রহমান বলেন,
“এই গ্রেনেড হামলায় বিএনপির ক্ষতি হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার লাভ হয়েছে। বড় বড় আওয়ামী লীগ নেতারা অক্ষত থেকেছেন। তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি আওয়ামী লীগের সাজানো।”

পাবনা-৫ আসনের জামায়াত সংসদ সদস্য আবদুস সোবহান বলেন,
“তারা (আওয়ামী লীগ) সঠিক তদন্ত চায় না, কারণ তাতে বিড়াল থলে থেকে বেরিয়ে পড়বে এবং প্রকৃত মাস্টারমাইন্ডরা প্রকাশ পেয়ে যাবে।”

পানি সম্পদমন্ত্রী হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“আওয়ামী লীগই এর পেছনে, কারণ তারা বোমা বানাতে পারদর্শী।”

অন্যদিকে বিকল্প ধারার নেতা মাহী বি চৌধুরী বলেন,
“বিরোধী দলের নেতাদের ওপর হামলার বিষয়গুলো এড়িয়ে গেলে আমরা নিরাপদ বোধ করব না।”

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন,
“আমি বুঝতে পারছি না কেন বিষয়টি সংসদের ৬২ ধারার আওতায় আলোচনার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সঠিক তদন্তের দাবি জানান।

মাহী বি চৌধুরী আরও বলেন,
“এটি একটি জঘন্য অপরাধ—শুধু একটি রাজনৈতিক দল বা তার নেতার ওপর নয়, পুরো বাংলাদেশের ওপর হামলা।”

তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন,
“আমি আলামত নষ্ট করেছি—এই অভিযোগ সঠিক নয়। বরং বিরোধী দলীয় নেত্রীর গাড়িটিই আলামত হিসেবে দেওয়া হয়নি।”

অধিবেশনের শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর, তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বলেন,
“প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেত্রী তা গ্রহণ করেননি। তারা সঠিক তদন্ত চায় না; বরং রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।