উখিয়া থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বা এপিবিএন এর সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ মনে করেন এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে রোহিঙ্গা শিবিরে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য থেকে।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছে দুস্কৃতকারীরা।”
“তারা (দুস্কৃতকারীরা) তাদের প্রভাব এবং আধিপত্য বিস্তারের জন্য এগুলো করছে যাতে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারে। এটাই তাদের মূল লক্ষ্য।”
রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আক্রমণ, হত্যাকাণ্ড বা সন্ত্রাসী তৎপরতার খবর সংবাদপত্রে শিরোনাম হচ্ছে অনেকদিন ধরেই।
রোহিঙ্গা নেতাদের হিসাবে, গত এক বছরে কমপক্ষে ১২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আক্রমণকারীরা টার্গেট করছে বিভিন্ন শিবিরের রোহিঙ্গা মাঝি বা নেতাদের।
সেজন্য রোহিঙ্গা নেতাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিবিরের বাইরে নিরাপদ জায়গায় বাসা ভাড়া করে থাকছেন।
এমনই একজন মোহাম্মদ আমিন। তিনি একটি শিবিরের হেড মাঝি বা প্রধান নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
মোহাম্মদ আমিন জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে তার ওপরও আক্রমণ হয়েছিল।
সে দফায় তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়ে শিবির ছেড়ে শিবিরের বাইরে একটি ভাড়া করা বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন। “নিরাপত্তার অভাবে আমি এখন শিবিরের বাইরে থাকি।”
মোহাম্মদ আমিন অভিযোগ করেন, শিবিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে “আরসা একের পর এক হত্যাকাণ্ডসহ নানা রকম সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে।”
“এরা (আরসা) আমাদের নির্যাতন করে। এরা আমাদের দু’জন মাঝিকে (রোহিঙ্গা নেতা) হত্যা করেছে,” বলেন মোহাম্মদ আমিন।
আরসা’র তৎপরতার বর্ননা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পে যতক্ষণ প্রশাসন বা আইন শৃঙ্খলার লোকজন থাকে, ততক্ষণ তারা (আরসা) লুকিয়ে থাকে। “
“প্রশাসন যখন ক্যাম্প থেকে চলে যায় তখন এরা (আরসা) ব্লকে ব্লকে আসে এবং আমাদের খোঁজ করে, গুলি করে, মারধোর করে” অভিযোগ মোহাম্মদ আমিনের।


