ঢাকামঙ্গলবার , ১৫ আগস্ট ২০২৩
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শেখ মুজিবকে হত্যার পর বঙ্গভবন থেকে যেভাবে দেশ চালান মেজররা

মোঃ সামিউল ইসলাম
আগস্ট ১৫, ২০২৩ ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পনেরোই অগাস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের খবরটি সারা দেশের মানুষের কাছে এসেছিল অনেকটা বজ্রপাতের মতো। প্রথমে অনেকের কাছেই সেটা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।

কিন্তু বেলা গড়াতে সবাই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিশ্চিত হন। বাংলাদেশ বেতারে কিছুক্ষণ পরপরই ঘোষণা দেয়া হচ্ছিল।

মানুষের মধ্যে এক ধরণের হতচকিত ভাব ছিল। কিন্তু দ্রুতই একের পর এক ঘটনা ঘটছিল দিনভর।

ওইদিনই অর্থাৎ ১৫ই অগাস্ট খন্দকার মোশতাক আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। এবং তার মন্ত্রিসভাতেও বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতারাই ছিলেন, যদিও দেশে ততক্ষণে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার পট পরিবর্তন হয়ে গেছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা বুঝতে পারছিলেন না, তাদের ঠিক কী করা উচিত।

পরের কয়েকদিনেও পরিস্থিতি একই রকম থমথমে ছিল। অফিস, আদালত আর কলকারখানায় কাজকর্ম এক রকম স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, যে কারণে কয়েকদিন পর সবাইকে কাজে যোগ দেয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশনাও পাঠাতে হয়েছিল সরকারকে।

হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেসময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা, যারা সবাই ছিলেন বাহিনীর মধ্যম সারির কর্মকর্তা। হত্যাকাণ্ডের পর তারা একটি ‘সেনা পরিষদ’ গঠন করেন।

তেসরা নভেম্বরে দেশে আরেকটি সেনা অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত নেপথ্যে এই সেনা পরিষদই দেশ শাসন করেছে।

কিন্তু সেসময় ঠিক কীভাবে চলছিল দেশ?

ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা হত্যাকারী মেজরদের

হত্যাকারীরা সেসময় বঙ্গভবনে অবস্থান নিয়েছিল, এবং তারা সেখানে ‘সেনা পরিষদ’ গঠন করেন।

সেখান থেকেই নির্দেশনা দিয়ে তারা পরের আড়াই মাসের কিছু বেশি সময় দেশ শাসন করে।

পরবর্তীতে ১৫ই অগাস্টের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল, তাদের দেয়া একাধিক সাক্ষাৎকার এবং বইতেও বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের অনেকের লেখায়ও সে সময়ের বর্ণনা পাওয়া যায়।

তাদের বর্ণনায় পাওয়া যায়, সেনাবাহিনীর একদল মধ্য সারির কর্মকর্তা যারা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা নিজেদের নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না।

এ কারণে বারবার তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করছিলেন যে, দেশে ভালো পরিবর্তন হয়েছে, দেশের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সেনাবাহিনীর যে কর্মকর্তারা শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তারা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদকে রাষ্ট্রপতি বানানো হবে।

তাদের বিবেচনায় ছিল, খন্দকার মোশতাককে রাষ্ট্রপতি বানালে আওয়ামী লীগ এবং বাকশালের একটি পক্ষের সমর্থন পাওয়া যাবে, ফলে অপর পক্ষকে শান্ত করা যাবে। অন্যদিকে পশ্চিমা এবং মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন জোগাড় সহজ হবে।

পনেরোই অগাস্ট যখন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের রক্তের দাগও শুকোয়নি, তখন নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

মেজর জেনারেল (অবঃ) মইনুল হোসেন চৌধুরী তাঁর ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতা প্রথম দশক’ বইতে এ কথা লিখেছেন।

মি. চৌধুরী লিখেছেন, “সরকার গঠন করে তিনি (খন্দকার মোশতাক) ‘জয় বাংলা’ ধ্বনির স্থলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ধ্বনি প্রচলন করেন।

বাংলাদেশ বিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদে বহাল করেন। এ সময় স্বাধীনতা বিরোধী চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বেশ তৎপর হয়ে উঠলো।”

এরপর ২০শে অগাস্ট খন্দকার মোশতাক সামরিক আইন জারি করেন এবং নিজেই প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেন।

ক্ষমতা গ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

ফলে তার সরকারে ১২ জন মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী থাকলেও কোন প্রধানমন্ত্রী পদ ছিল না। এ মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়া বেশিরভাগই ছিলেন আগের মন্ত্রিসভার সদস্য।

নিজে রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণের পরেই উপ-রাষ্ট্রপতি করেন শেখ মুজিব সরকারের ভূমি মন্ত্রী মোহাম্মদ উল্লাহকে।

এদিকে, আগে থেকেই সেনাপ্রধান জেনারেল কে এম শফিউল্লাহর ওপর ক্ষোভ ছিল হত্যাকারী মেজরদের।

শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের খবর শোনার পরে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিগ্রেড কমান্ডার শাফায়াত জামিল এবং বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে ফোন দিয়েছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ।

কিন্তু তারা কেউ কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।