ঢাকাবুধবার , ২৪ মার্চ ২০২১
  1. Driver Booster
  2. Fabfilter Pro Q 3
  3. Kmspico
  4. অন্যান্য
  5. অপরাধ
  6. অর্থনীতি
  7. আইন আদালত
  8. আইন ও পরামর্শ
  9. আন্তর্জাতিক
  10. আবহাওয়া
  11. ইসলাম
  12. কর্পোরেট
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বাধীনতার ৫০ বছর: শেখ মুজিব যেদিন পাকিস্তানের কারাগারে হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন

ডেস্ক রিপোর্ট
মার্চ ২৪, ২০২১ ২:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ যেদিন স্বাধীন হলো সেদিনই মিয়াওয়ালির কারাগারের মধ্যে শেখ মুজিবকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানি গোয়েন্দা পুলিশের ক’জন কর্মকর্তার উপস্থিত বুদ্ধির জোরে সেদিন তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।

কথা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালীদের উপযুক্ত শিক্ষা দেয়ার কাজটা শুরু হবে ২৫শে মার্চ দিবাগত রাত একটা থেকে। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টা থেকেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে পড়ে। সেনাবাহিনীর অধিনায়করা উত্তেজিত এবং প্রস্তুত। তারা ‘এইচ-আওয়ার’ অর্থাৎ হামলার নির্ধারিত সময়টি এগিয়ে আনার জন্য তাগাদা দিচ্ছিল।

আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা নাটক শেষে প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান সেদিন সন্ধ্যাবেলায় লুকিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। তাকে বহনকারী বিমানটি তখনও কলম্বো আর করাচির মাঝপথে রয়েছে। সেটি করাচি না পৌঁছনো পর্যন্ত অ্যাকশন শুরু করা যাবে না। পূর্ব পাকিস্তানে মোতায়েনে সেনাবাহিনীর কোর কমান্ডার ও সামরিক শাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ওয়্যারলেসে বার্তা পাঠালেন: “ববিকে (ব্রিগেডিয়ার জেহানজেব আরবাব) বলো যতক্ষণ সম্ভব অপেক্ষা করতে।”

পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের কোড-নেম ছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’- চার পাতার এই পরিকল্পনায় ছিল ১৬টি অনুচ্ছেদ। এই পরিকল্পনায় ছিল সেনাবাহিনীর দুটি সদর দফতর থাকবে। একটির দায়িত্ব নেবেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান। তার অধীন ব্রিগেডিয়ার আরবাবের ৫৭ ব্রিগেড ঢাকা শহর ও তার আশেপাশে অপারেশন চালাবে। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা দ্বিতীয় হেডকোয়ার্টারের দায়িত্বে থাকবেন। ঢাকা বাদে দেশের বাকি অংশে অপারেশনের দায়িত্ব তার।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে সেই রাতে ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন মেজর সিদ্দিক সালিক। তিনি তার লেখা উইটনেস টু সারেন্ডার বইতে জানিয়েছেন, “রাত সাড়ে এগারটা থেকে ওয়্যারলেসগুলো সচল হয়ে উঠলো। নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু হলো হামলা। খুলে গেল দোজখের দরোজা।”

“সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট যখন ঢাকা শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তখন শুনতে বিশাল এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেলাম। শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির দিকে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়া ছিল। তাকে গ্রেফতারের জন্য যে কমান্ডো দল রওনা দিয়েছিল তারা রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে তা উড়িয়ে দেয়।”

সেনাবাহিনীর নিয়মমাফিক কোম্পানিতে নেতৃত্ব দেয়ার কথা একজন ক্যাপ্টেন বা মেজর পদমর্যাদার অফিসারের। কিন্তু শেখ মুজিবকে আটকের দায়িত্ব পাওয়া স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি) ৩ কমান্ডো কোম্পানিতে কমান্ডিং অফিসার ছিলেন লে. কর্নেল জেড এ খান এবং কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন মেজর বিলাল রানা আহমেদ।

এসএসজি কমান্ডোরা যখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে শেখ মুজিবের বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল তখন তখন বাড়ির রক্ষীরা তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। কমান্ডোরা দ্রুত এদের থামিয়ে দেয়। একজন অস্বীকার করলে তাকে হত্যা করা হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসার পর ১৯৭২ সালে শেখ মুজিব তার গ্রেফতারের সেই মুহূর্তগুলির বর্ণনা দিয়েছিলেন নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক সিডনি শনবার্গকে।

“গোলাগুলি শুরু হলে আমি সবাইকে নিয়ে ঘরের মেঝেতে শুয়ে পড়ি। তারপর যখন সিঁড়িতে তাদের পায়ের শব্দ পাই, তখন দরোজা খুলে জানতে চাই: ‘গুলি থামাও, গুলি থামাও। কেন তোমরা গুলি করছো? আমাকে যদি মারতে চাও আমি তো এখানেই রয়েছি। কেন তোমরা আমার লোকজনকে মারছো?”

পাকিস্তানি সৈন্যরা এরপরও গুলি চালালে, মেজর বিলাল তাদের থামায় এবং শেখ মুজিবকে জানায় যে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এরপর শেখ মুজিব পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেন।

তাদের তিনি বলেন: “আমাকে হয়তো ওরা মেরে ফেলবে। ফিরে আসতে পারবো কিনা জানি না। কিন্তু কোন একদিন আমাদের দেশের মানুষ মুক্ত হবে। তখন আমার আত্মা তা দেখে খুশি হবে।” একথা বলে তিনি সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যান।

কিন্তু পাক সেনাবাহিনীর জিপে উঠতে গিয়ে শেষ মুজিব হঠাৎ থমকে দাঁড়ান। তিনি তার আটককারীদের বলেন, “আমি আমার পাইপ আর তামাক ফেলে এসেছি। পাইপ আমার লাগবেই।” তার কথা শুনে সৈন্যরা থমকে যায়। এরপর তারা তাকে ঘিরে আবার বাড়িতে ফিরে এলে বেগম মুজিব সেই পাইপ আর তামাক স্বামীকে এগিয়ে দেন।

“এরপর এসএসজির দলটি বাড়ির সবাইকে আটক করে এবং সেনাবাহিনীর জিপে চড়িয়ে সেকেন্ড ক্যাপিটালে নিয়ে আসে,” সিদ্দিক সালিক লিখছেন, “এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়্যারলেসে ৫৭ ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর জাফরের গলার শব্দ শোনা যায়। পরিষ্কার গলায় সে জানায়:’বিগ বার্ড ইন দ্যা কেজ (বড় পাখি এখন খাঁচায়) … অন্যান্য পাখিরা নীড়ে নেই, ওভার।”

“এই মেসেজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমি দেখতে পেলাম শাদা সার্ট পরিহিত ‘বিগ বার্ড’কে ক্যান্টনমেন্টের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেউ একজন জেনারেল টিক্কাকে জিজ্ঞেস করেছিল তিনি শেখ মুজিবের সাথে দেখা করতে চান কিনা। জবাবে তিনি বলেছিলেন: আমি তার মুখ দেখতে চাই না।”

“পরে আমি মেজর বিলালকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন শেখ মুজিবকে সেদিন একেবারে শেষ করে দেয়া হলো না। সে জবাব দিয়েছিল যে জেনারেল মিঠঠা তাকে ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দিয়েছিল মুজিবকে জীবিত গ্রেফতার করতে।”

সিডনি শনবার্গ লিখছেন, ক্যান্টনমেন্টে শেখ মুজিব রাখা হয়েছিল আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের ‘একটি নোংরা অন্ধকার ঘরে।’ পরের দিন তাকে সরিয়ে নেয়া হয় ক্যান্টনমেন্টের ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউজে।

আটক শেখ মুজিবকে নিয়ে একটি বিমান পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে ১লা এপ্রিল। বিমানটি করাচিতে নামার পর সেখান থেকে আরেকটি বিমানে তাকে সরিয়ে নেয়া হয় রাওয়ালপিন্ডিতে, এবং শেষ পর্যন্ত তার জায়গা হয় উত্তর পাঞ্জাবের শহর মিয়াওয়ালির কারাগারের এক প্রকোষ্ঠে যেখানে সাধারণত রাখা হতো মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের।

পাকিস্তানে শেখ মুজিবের বন্দিজীবনের বিস্তারিত খুব একটা জানা যায় না।

তবে মনে রাখতে হবে যাদের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল তারা পূর্ব পাকিস্তানে কী ঘটছে তা পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণকে মোটেও জানাতে চাননি। ‘ভারত-সমর্থিত বিদ্রোহী’দের কীভাবে শায়েস্তা করা হচ্ছে তার দিকেই নজর ছিল বেশি। বিশেষভাবে ৩রা ডিসেম্বর ভারত-পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জাতীয়তাবাদী জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।